বাণিজ্য ডেস্ক :
পাঁচ বছর ধরে প্রদান করেনি কোনো কর। এখন পর্যন্ত কত ফাঁকির পরিমাণ ৪৬৮ কোটি টাকা। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এমন অভিযোগ এনেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিপক্ষে।
একের পর এক চিঠি দিয়েও আদায় করা যায়নি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে ধার্য করা কর। এতে এনবিআরকে নিতে হচ্ছে ঘাটতির অপবাদ। এনবিআরের মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অনুসন্ধানে ওই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এনবিআর যে সময়ের ভ্যাটের কথা বলছে, সে সময় ভ্যাট বিভাগের কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোনো ভ্যাট সংগ্রহ করেনি। তাই ভ্যাট বিভাগ যে ভ্যাট দাবি করছে তা অযৌক্তিক।
তবে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন সই করা চিঠি বলছে ভিন্ন কথা। চলতি মাসের ১৪ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সেবা খাতের বিপরীতে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে খাতওয়ারি নিরীক্ষা করে উদ্ঘাটিত অপরিশোধিত মূসক বাবদ ৭৬ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ টাকা আদায়ে ২০১৮ সালের ১ জুলাই দাবিনামা জারি করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় ওই একই দিনে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বকেয়া হিসাবে ৮৬ কোটি ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ১১০ টাকার ভ্যাট আদায়ে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হয়।
এ ছাড়া মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর প্রতিষ্ঠানের ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর পর্যন্ত নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩০৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৫১৬ টাকা অপরিশোধিত ভ্যাটের তথ্য উদ্ঘাটন করে। বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের শুনানি গ্রহণ করে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হয়। তিনটি চূড়ান্ত দাবিনামায় অপরিশোধিত মূসকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ টাকা। ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে দ্রুত তা পরিশোধের অনুরোধ করেছে ভ্যাট কমিশনারেট।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম ভ্যাট অফিস থেকে যে ভ্যাট দাবি করা হয়েছে, সেটা এখনো বকেয়া রয়েছে। যখন থেকে এনবিআরের ভ্যাট সংগ্রহের আদেশ জারি করা হয়েছে, তারপর থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করেছি এবং সরকারি কোষাগারে জমাও দেয়া হয়েছে। আদেশের আগে ভ্যাট সংগ্রহের প্রশ্ন ছিল না।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ভ্যাট কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আদেশের আগে যেহেতু সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ভ্যাট নেয়া হয়নি, তাই জমা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। অফিস আদেশের পর থেকে নিয়মিত ভ্যাট পরিশোধ করা হচ্ছে।
ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এ বিষয়ে আমরা তাদের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছি। এখন সরকারি পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করব।’
এনবিআর সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬৯ ধরনের সেবা গ্রহণ করা হয়, যার বিপরীতে ৫, ৯ ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে এ বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সেবার বিপরীতে যে ভ্যাট আদায় হয়, তা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয় না বলে অভিযোগ পায় এনবিআর।
