আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানে সদ্য শপথ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সামনে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে আছে। বেশ কিছু বড় প্রতিকূলতা নিয়েই নতুন সরকারকে তার কার্যক্রম শুরু করতে হচ্ছে। বলা যায়, দেশটিতে যে সংকট রয়েছে, তাতে আরও নতুন কিছু যোগ হবে, বরং বাদ দেওয়ার মতো কিছু নেই।
দেশটির শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডনের বিশ্লেষণ বলছে, মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও দেশের বিভিন্ন অংশে উগ্রপন্থীদের উত্থানের সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে নতুন সরকার।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীকে নিয়ে পাকিস্তানের নতুন জোট সরকার। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পরস্পর বিরোধিতাও রয়েছে। নতুন নির্বাচন দেওয়ার আগপর্যন্ত সরকারের অংশীদারেরা কতদিন নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে আগাম কোনো ধারণা দেওয়া যাচ্ছে না।
ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তেহরিক-ই-ইনসাফের আইনপ্রণেতারা। দেশে আগাম নির্বাচন দিতে তারা সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে জোরালো অঙ্গীকার করেছেন। সবমিলিয়ে নতুন প্রশাসনের জন্য সবকিছু মসৃণ হবে না।
শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ প্রতিকূলতা হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে সারিয়ে তোলা। নিজের এজেন্ডায় এটিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে।
ক্ষমতায় আসার পর একটি বাজে অর্থনীতির উত্তরসূরি হয়েছিল তেহরিক-ই-ইনসাফ। কিন্তু তারা সেটিকে আরও খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। সাধারণ মানুষকে এখন দুই-অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি মজুরি ও বেকারত্ব বেড়েছে। তলানিতে ডুব দিচ্ছে পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক। স্বল্প-সময়ের বিরতির পর ইতিমধ্যে বিনিময় ভারসাম্যের সংকট ফিরতে শুরু করেছে।
অনিশ্চিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তানের বহুপাক্ষিক সহায়তাও আটকে আছে। আন্তর্জাতিক পণ্য মূল্য বেড়েছে। নাজুক বাহ্যিক খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপে খাদ্য ও অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য পাকিস্তান সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদ্যুৎ ও পেট্রোলিয়ামের মূল্যসীমা উঠিয়ে নিতে হবে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে হবে।
ডনের সম্পাদকীয় বলছে, এটি খুবই কঠিন কাজ হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামত ছাড়া তা সম্ভব না-ও হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত কী শাহবাজ শরিফ সরকার নিতে পারবেন?
পাকিস্তানের নতুন জাতীয় নির্বাচন খুব যে দূরে, তাও কিন্তু না। নতুন প্রশাসনের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ও উদ্যোগের সমালোচনাসহ তদন্ত করবে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ।
ক্ষমতায় এসেই বেশ কয়েকটি জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে শাহবাজ শরিফকে। যেমন, সরকারি কর্মকর্তাদের ১০ শতাংশ বেতনবৃদ্ধি ও আটা-ময়দার দামে ভর্তুকি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরই তার এসব ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন।
শাহবাজ সরকারের সামনে এখন একদিকে অপ্রীতিকর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যদিকে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রত্যাশার চাপ রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় তাদের কাছে খুব বেশি বিকল্পও নেই। বিশেষ করে বর্তমান সময়টা তাদের জন্য বেশ খড়ার। বিপুল অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জের কারণে সরকারকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। কঠোর ও অনমনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যা সরকারের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তায় ফেলবে না। কঠিন ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতেও জনগণের কাছ থেকে তাদের হাতে ম্যান্ডেন্ট আছে। সরকার প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে— যদি নির্বাচনী আইনের সংস্কার করে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
