জাতীয় ডেস্ক :
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে চলতি বছর প্রাণ গেছে ১১ পর্যটকের। একের পর এক প্রাণহানির পরও সতর্ক করার উদ্যোগ নেই। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলোতে নেই পর্যটকদের সতর্কীকরণ কোনো নির্দেশনা।
কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত হোটেল-মোটেল জোন। এই গেস্ট হাউসটির মালিক সমিতির সভাপতির। এই গেস্ট হাউসের প্রবেশদ্বারে রয়েছে নানা নির্দেশনা। কিন্তু নেই পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে সতর্ক করার কোন নির্দেশনা। একই অবস্থা অন্যান্য গেস্ট হাউসগুলোরও।
সৈকতের পাড়ের তারকা মানের হোটেলগুলোতে নেই পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে সতর্ক করার কোনো নির্দেশনা। সবারই রয়েছে নানা অজুহাত।
সৈকতের ৩টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই প্রবেশ করছেন পর্যটক। এসব প্রবেশদ্বারেও সতর্ক করার জন্য নেই কোনো মাইকিং বা নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড।শুধু সৈকতে পতাকা বা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দেখার কেউ না থাকায় লাল পতাকার মধ্যেও গোসলে নেমে পড়ছেন পর্যটকরা। আর লাখো পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের নিরাপত্তায় রয়েছে দুই শিফটে মাত্র ২৮ জন লাইফ গার্ড।
সৈকতে সমুদ্রস্নানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের সবাইকে একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে জানালেন লাইফ গার্ড সংস্থা সী-সেইফ প্রজেক্টের সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) ফিল্ড ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি বলেন, সৈকতের প্রবেশ মুখগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে সতর্কতা তথ্য থাকা দরকার। আগে এটা ছিল। গত দুই-তিন বছরে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এটা এখন উঠে গেছে। আমার মনে হয়, এ জায়গাটাতে প্রশাসনের কাজ করা দরকার।
সৈকতে লাইফ গার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি হোটেল মোটেলগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ।
লাইফ গার্ড সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছর সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে মৃত্যু হয়েছে ১১ জন পর্যটকের। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশত ।
