হোম আন্তর্জাতিক ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন রাশিয়াতে অবস্থান করছে: বেলারুশ প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন রাশিয়াতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট। এ খবর প্রকাশের পর ওয়াগনার সদর দফতরে অভিযান চালিয়েছে রাশিয়ার পুলিশ।

নাটকীয়তা আর রহস্যময়তা ঘিরে রয়েছে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনকে নিয়ে। পুতিনের আস্থার স্বম্ভ হয়ে ওঠা এ ব্যক্তিই হঠাৎ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন খোদ পুতিনের বিরুদ্ধে। তবে, গুঞ্জন রয়েছে রাশিয়ার স্বার্থেই বিদ্রোহের নাটক সাজিয়েছেন পুতিন-প্রিগোজিন। ওয়াগনার গ্রুপের সেনা সংগ্রহের জন্য বাহিনীর প্রধান বেলারুশ গেছেন বলেও ধারণা করেন অনেকে।

তবে সব জল্পনাকে ভুল বলে দাবি করেছে বেলারুশ। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দাবি করেন, ওয়াগনার প্রধান বেলারুশে নয় রাশিয়াতেই আছেন। ওয়াগনার গ্রুপ নিয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন না করারও অনুরোধ জানান।

আর ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন সেইন্ট পিটার্সবার্গ অবস্থান করছেন এমন খবর প্রকাশের পর শহরটিতে থাকা ওয়াগনারের সদর দফতরে অভিযান চালিয়েছে রুশ পুলিশ।

এদিকে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে বেলারুশের ভূখণ্ডে নতুন করে ওয়াগনার বাহিনীর জন্য ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্র এবং বেলারুশের একটি গেরিলা গোষ্ঠীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমনটাই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

চিত্রগুলো তুলেছে প্ল্যানেট ল্যাব পিএলসির মালিকানাধীন একটি স্যাটেলাইট। চিত্র থেকে দেখা গেছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বেলারুশীয় অঞ্চল অসিপভিচিতে পরিত্যক্ত একটি সেনা ঘাঁটিকে আবারও নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

ছবি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ৩০ জুন ওই এলাকার তোলা ছবিতে স্পষ্ট সাদা এবং সবুজ রঙের অবকাঠামো বা তাঁবুর অস্তিত্ব রয়েছে বলে দেখা গেছে। অথচ, এর আগে গত ১৫ জুন ওই একই এলাকার তোলা ছবিতে কোনো ধরনে নতুন অবকাঠামোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওয়াগনারের নতুন ঘাঁটি গড়ে তোলার বিষয়টি নিশ্চিতের দাবি করেছেন, লুকাশেঙ্কোবিরোধী গেরিলা গোষ্ঠী বিওয়াইপিওএল-এর নেতা আলিকসান্দার আজারাউ। এপির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে আজারাউ দাবি করেন, অসিপভিচির নিকটেই ওয়াগনারের জন্য নতুন ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে।

এর আগে, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জানিয়েছিলেন, তিনি তার দেশের একটি পরিত্যক্ত সেনা ঘাঁটিতে ডেরা গড়তে ওয়াগনারকে প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ওয়াগনার বাহিনীর যে অভিজ্ঞতা এবং সরঞ্জাম রয়েছে তা তিনি বেলারুশের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবেন।

এদিকে ইউক্রেনীয় বর্ডার ফোর্সের মুখপাত্র আন্দ্রেই দেমশেঙ্কো জানিয়েছেন, বেলারুশ প্রায় ৮ হাজার ওয়াগনার সেনাকে ইউক্রেনের সীমান্ত বরাবর মোতায়েন করতে পারে। জবাবে, ইউক্রেনও বেলারুশের সঙ্গে থাকা দীর্ঘ ১ হাজার ৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে নিজেদের অবস্থান জোরদার করবে।

এর আগে, গত ২৩ জুন ওয়াগনার গ্রুপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এমনকি ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে তারা রাশিয়ায় প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী একটি সেনা ঘাঁটিও দখল করে নেয়। পরে অবশ্য বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় বিদ্রোহ থামায় ওয়াগনার।

সে সময়কার চুক্তি অনুসারে ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিনকে রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে আশ্রয় নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পাশাপাশি ওয়াগনার বাহিনীর সদস্যদের প্রিগোজিনের সঙ্গে থাকার অথবা রুশ সেনাবাহিনীতে একীভূত হয়ে যাওয়া প্রস্তাবও দেয়া হয়।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন