আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। এবার জোটটি এশিয়াকেও অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলে দাবি করেছে রুশ গবেষণা সংস্থা রাশিয়ান গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স। এতে ন্যাটো জাপানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও মনে করছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুসারে, এশিয়ার বৃহত্তম দেশ চীনের সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ ছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে পড়ায় ক্ষুব্ধ জাপান। আবার ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে ওয়াশিংটন-টোকিও। সব ছাপিয়ে চলতি মাসে বৈঠকও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
এতে নজিরবিহীন কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় বাইডেন প্রশাসন। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্প্রতি জাপানের প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ৩২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগকে পূর্ণ সমর্থন দেন বাইডেন।
এসব জটিল অবস্থা বিবেচনায় রাশিয়ার দাবি, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এতে ন্যাটোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকাও রয়েছে বলে মনে করছে রাশিয়ান গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে ব্যবহার করছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি। আর এতে জাপানই যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর হাতিয়ার, এমনটাই বলছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব আচরণকে শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বেইজিং। আর এশিয়ায় বিভাজন সৃষ্টির পাঁয়তারাকে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা উল্লেখ করে তা শিগগিরই এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। যদিও বরাবরই বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য রাশিয়া ও এর মিত্রপক্ষদের দায়ী করে আসছে ওয়াশিংটন।
