হোম আন্তর্জাতিক এপেক সম্মেলন : জিনপিংয়ের সঙ্গে কামালার সংক্ষিপ্ত বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকনোমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৯ নভেম্বর) সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত তারা। হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে জিনপিংয়ের বৈঠকের কয়েক দিনের মাথায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চীনা প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে কামালা হ্যারিস চীনা প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১৪ নভেম্বর চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছিলেন সে বিষয়গুলোই নতুন করে তুলে ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা। তিনি বলেছেন উভয় দেশের মধ্যে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের অবশ্যই যোগাযোগ ও আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বিপরীতে জিনপিং বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকটি কৌশলগত ও গঠনমূলক ছিল। ওই বৈঠকের চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা রয়েছে।

গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট বৈঠক করেন। ইন্দোনেশিয়ার একটি হোটেলে বাইডেনের সঙ্গে সেই বৈঠক চলে তিন ঘণ্টা ধরে। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি ছিল তাদের প্রথম সশরীর বৈঠক।

এ বৈঠক নিয়ে দুই পক্ষই ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছে। বলেছে, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তা থামানোর আশা করছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্রগুলোয় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করারও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

আগামী বছরের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাহলে এটি হবে ২০১৮ সালের পর কোনো মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিকের প্রথম চীন সফর।

করোনা মহামারি শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফরে আছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে এপেক সম্মেলন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সদস্য দেশগুলোর নেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে এক লিখিত বক্তব্যে চীনা প্রেসিডেন্ট এশিয়ায় যেকোনো যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করার ওপর জোর দেন। সেই সঙ্গে নতুন করে শীতল যুদ্ধের ঝুঁকির ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।

জিনপিং তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল কারও উঠান নয়, আর কোনো পরাশক্তির শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চও হবে না।’ এরপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ককে রাজনীতিকরণ ও অস্ত্রকরণের ব্যাপারেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নতুন করে শীতল যুদ্ধ ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যেকোনো চেষ্টা এ অঞ্চলের মানুষ ও সময় বরদাস্ত করবে না।’ বক্তব্যে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও এর মাধ্যমে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রকে একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) শুরু হয় দুই দিনব্যাপী এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলন-২০২২’। বালিতে জলবায়ু সম্মেলন ও ‘জি-২০’ সম্মেলনের পরপরই শুরু হয় ২১ জাতির এ সম্মেলন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস।

সম্মেলনের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ মিত্র দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন কামালা হ্যারিস। সেখানে উত্তর কোরিয়ার সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তারা।

কামালা হ্যারিসের সঙ্গে থাকা এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ভূমিকা আছে। চীনের উচিত নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে উত্তর কোরিয়াকে বোঝানো যে তারা যেন উসকানিমূলক আচরণ না করে। এ ধরনের আচরণ কেবল অঞ্চল ও বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে দেয়।’

সম্প্রতি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে দেখা গেছে। এ অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে বেইজিং। তবে চীনের এ দাবি নাকচ করে আসছে তাইওয়ান। তারা নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।

গত আগস্টে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করেন। চীনের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও পেলোসির তাইওয়ান সফরে ক্ষুব্ধ হয় বেইজিং। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান ঘিরে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায় চীন। ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন কমাতেও চীনকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন