আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের দুই সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে দুটিতে পরাজিত হয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। এ পরাজয়কে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বের প্রতি বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। উপ-নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের দায় নিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলের চেয়ারম্যান অলিভার ডউডেন।
বৃহস্পতিবার সাউথ ইয়র্কশায়ারের ওয়েকফিল্ড আসন ও সাউথ ওয়েস্টের টিভারটন ও হনিটন আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চলতি মাসের ৬ জুন দলের এমপিদের সমর্থনে আস্থা ভোটে কোনোভাবে জিতে গেলেও উপনির্বাচনে পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি।
টিভারটন ও হনিটন আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে আর ওয়েইকফিল্ড আসনে লেবার প্রার্থীর কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যান কনজারভেটিভ দলের প্রার্থীরা। পরাজয়ের দায় মাথায় নিয়ে শুক্রবার (২৪ জুন) পদত্যাগ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান অলিভার ডউডেন এমপি। এ পদত্যাগকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার) ঋষি সুনাক।
স্কাই নিউজ জানিয়েছে, পার্টি চেয়ারম্যানের আচমকা পদত্যাগে অনেকটা বিস্মিত প্রধানমন্ত্রী বরিস। দলের আরও পদত্যাগের ঘটনা ঘটবে কিনা সে ব্যাপারেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে বরিস সমর্থক এমপি শিবিরে। মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে দুঃসময় পার করছে। আর্থিক মন্দার কারণে ব্রিটিশ জনগণের হতাশা ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের কারণ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে চিফ হুইপ ও চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বরিস জনসন পদত্যাগ এড়াতে আগাম নির্বাচনের ট্রাম্পকার্ড খেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ দেশগুলোর একটি বৈঠকে যোগ দিতে রুয়ান্ডা সফরে রয়েছেন জনসন। সেখান থেকে তিনি এই পরাজয়ের খবর পেয়েছেন। তিনি উপনির্বাচনের এই ফলাফলকে ‘কঠিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থীদের হারিয়ে এই দুটি আসনে জয় পেয়েছিল কনজারভেটিভরা। উপনির্বাচনের এই পরাজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০১৯ সালে জনসন ভোটারদের যা দিয়ে আকর্ষণ করেছিলেন, গত তিন বছরে তা দ্রুতই ক্ষয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ইতোমধ্যে দলের আইনপ্রণেতারা জনসনবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারিকালে লকডাউন পার্টি আয়োজনের কারণে। পার্টিগেট হিসেবে খ্যাত ওই কেলেঙ্কারিতে জরিমানার মুখে পড়লেও পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
পদত্যাগের দাবির মধ্যে চলতি মাসে বরিসের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধীরা। কনজারভেটিভ এমপিদের ভোটে কোনোমতে টিকে যান বরিস। তবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এমপিদের ৪১ শতাংশই তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
রুয়ান্ডায় থাকা বরিস জনসন বলেন, আমি মনে করি সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে অনেক কিছু করার আছে।
এদিকে পদত্যাগের সময় একটি চিঠিতে দলের চেয়ারম্যান অলিভার এই পরাজয়ের জন্য জনসনকে দায় নেওয়া উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, স্বাভাবিকের মতো কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যেতে পারি না। কাউকে দায় নিতে হবে এবং আমার সিদ্ধান্ত হলো এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বে থাকা ঠিক না।
দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, আমরা এই পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি। পরাজয়ের পর জনসন ও দলের নেতাদের এমন ব্যাখ্যাতে হতাশা কাটছে না কনজারজেটিভ পার্টির মধ্যে। বেশ কয়েকজন এমপি অলিভার ডউডেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইট করেছেন। তারা দাবি করেছেন, এই পরাজয়ের জন্য তিনি দায়ী নন। তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জনসনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আবারও ভিন্নমত বাড়তে পারে।
দলের নিয়ম অনুসারে, এক বছরের মধ্যে আবার অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব আনা যাবে না জনসনের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে পদত্যাগের ঢেউ দেখা দিলে পিছু হটতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি ২০২৪ সালে নির্ধারিত থাকলেও আগাম নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
