হোম আন্তর্জাতিক ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 54 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানের ব্যবহৃত ড্রোন ও সামরিক কৌশলের পেছনে রাশিয়ার সরাসরি প্রভাব থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই সক্ষমতা ও রণকৌশলের নেপথ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘গোপন হাত’ থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। জন হিলি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ইরানকে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, গত ১ মার্চ সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের ‘আরএএফ আক্রোতিরি’ বিমানঘাঁটিতে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। সেই বিধ্বস্ত ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখছেন।

এই ড্রোনে রাশিয়া বা অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের তৈরি যন্ত্রাংশ অথবা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই তদন্তের প্রধান উদ্দেশ্য। লন্ডনের অদূরে নর্থউডে ব্রিটিশ সামরিক সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় হিলি সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন যে, তদন্ত শেষ হওয়া মাত্রই প্রাপ্ত সকল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

জন হিলি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভ্লাদিমির পুতিন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুতিনের গোপন ভূমিকা থাকাটা মোটেও বিস্ময়কর নয়।

তিনি মনে করেন, ইরান যেসব উন্নত কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এককভাবে তাদের পক্ষে অর্জন করা কঠিন হতে পারত। রাশিয়ার মতো একটি শক্তিশালী দেশের কারিগরি সহায়তা এই সমীকরণকে ইরানের পক্ষে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ইরাকে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্রিটেনের এই অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক মহলে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার ‘গোপন সামরিক অক্ষ’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে রুশ প্রযুক্তির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা রাশিয়ার ওপর আরও নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন