আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইতালিতে রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটির সংসদীয় নির্বাচন। এর মধ্যে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আগের দিন শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রচারণা বন্ধ ছিল। খবর ডয়চে ভেলে।
বিবিসির খবরে জানা যায়, নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্রাদার্স অব ইতালি দলের প্রধান জর্জিয়া মেলোনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জিউসেপ কন্তে সমর্থকদের বলেছেন, ভোটটি ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও ভোটাররা দেখবেন মূলত জ্বালানির মূল্য সাশ্রয়ের বিষয়টি। কেননা, জ্বালানির দাম এখন আকাশচুম্বী।
জানা যায়, নির্বাচনে ডানপন্থিদের বিজয়ে ইতালি রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনমতে, ২০১৮ সালে ভ্লাদিমির পুতিন যখন চতুর্থ মেয়াদে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন পুতিনকে কিছুটা তড়িঘড়ি করেই অভিনন্দন জানান ইতালির কয়েকজন ডানপন্থি নেতা।
এই নির্বাচনে জয়ী হলে, মেলোনি হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। মাত্তেও সালভিনির লিগ ও সিলভিও বেরলুসকোনির ফোরজা ইতালিয়াকে নিয়ে ডানপন্থি সরকার গঠন করতে পারে তার দল।
নির্বাচনের আগে মেলোনি বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স কমানো ও যারা এক লাখ ইউরোর চেয়ে কম আয় করেন, তাদের জন্য ফ্ল্যাট ট্যাক্সের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ ছাড়া মেলোনির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-বাম ডেমোক্রেট পার্টির নেতা এনরিকো লেত্তাও বলেছেন, মেলোনি জয় পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুশি হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউরোপের ভিক্টর অরবান।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে। এদিন নির্বাচনী সমাবেশ করে বামপন্থি জোটের শরিক ডেমোক্রেটিক পার্টি। এতে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি ঘটলেও জনমত জরিপে পিছিয়ে আছে দলটি। শেষ দিনের প্রচারণায় ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন দলটির নেতারা।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর একই স্থানে নির্বাচনী সমাবেশ করে ডানপন্থিরা। এতে বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ডানপন্থি জোটের শীর্ষ নেতারা। এ সময় নির্বাচনে জয়ী হলে বিদ্যুতের দাম কমানোর আশ্বাস দেন তারা।
এদিকে এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় এক যুগ পর মধ্য অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসবে বলে মনে করছেন দেশটির নাগরিকরা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মোকাবিলায় সবকিছুই করে যাচ্ছে ইউরোপ। ঠিক সেই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে আগে থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন দলগুলোর ইতালির ক্ষমতায় ফেরা রোম-মস্কোর সম্পর্ক আবারও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
