আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে রুশ সেনারা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির সেভেরদোনেৎস্ক শহর দখলে নেয়ার পথে রয়েছে তারা। এ তথ্য জানিয়েছেন লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই। খবর আল-জাজিরার।
শহরটিতে ‘ভয়ঙ্কর’ লড়াই চলছে জানিয়ে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে হাইদাই বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের জন্য হতাশাজনক একটি খবর আছে। শত্রু (রুশ সেনারা) সেভেরোডোনেৎস্ক শহরে প্রবেশ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী শহর লিসিচানস্ক এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে শহর দুটির প্রধান প্রধান সড়কে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। যদিও লিসিচানস্ক এবং সেভেরদোনেৎস্ক শহর অবরুদ্ধ করা হয়নি।’
লুহানস্কের গভর্নর বলেন, ‘তারা (রাশিয়ান সেনাবাহিনী) একই কৌশল বারবার ব্যবহার করে আসছে। রুশ সেনারা একটানা তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা গোলাবর্ষণ করে এবং এরপর আক্রমণ চালায়। ইউক্রেনের সেনাদের প্রতিরোধের মুখে না পড়া পর্যন্ত তারা হামলা চালাতে থাকে।’
সেভেরোডোনেৎস্ক শহরে গোলাগুলির মধ্যে দুই বেসামরিক লোক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৮ মে) ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ লাইমেন শহরেও অভিযান চালায় রুশ সেনারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, হামলার পর শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়ার সেনারা। আর এই অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, লাইমেন শহরকে ‘শত্রুমুক্ত’ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। শনিবার শহরটির একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালায় তারা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় কেউ হতাহত না হলেও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, লুহানস্ক প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভেরদোনেৎস্ক দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে রুশ সেনারা। তবে ইউক্রেনীয় সেনারা কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি বেশ জটিল অবস্থায় আছে। দনবাস আর খারকিভে রুশ সেনারা অভিযান জোরদার করেছে। শনিবার সুমি ও মাইকোলাইভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের সেনারা কঠিন প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে রুশ সেনারা অভিযান জোরদার করায় খেরসন অঞ্চলে আটকে পড়া সাধারণ মানুষকে সরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।
