আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
আশাশুনির আনুলিয়ায় মির্জাপুরের ইউপি সদস্য কর্তৃক ৪১ ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা ও পাইতারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপরে মির্জাপুরের ভূমিহীনরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এঘটনায় এসিল্যন্ডের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগে ও সরজমিন ঘুরে ভূমিহীন পরিবারসহ আশেপাশের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে জানায় ১৯৯৪ সাল হইতে অদ্যবধি ২০২২ সাল পর্যন্ত ৪১ ভূহিমীন পরিবার সহ অন্যান্য অস্বহায় বাস্তহারা ব্যক্তিরা সরকারের রাজস্ব টাকা ঠিক ঠাক মত দিয়ে খাষ জমি ডিসিআর নিয়ে মাথা গোজার ঠাই সহ ধান চাষ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু হটাৎ উক্ত জমিতে নজর পড়ে মির্জাপুর গ্রামের মৃত গফুর সানার পুত্র খাষজমি খেগু নারী নির্যাতন মামলার আসামী কুখ্যাত জুয়ারী আনুলিয়ার মির্জাপুর ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন কেটু ও তার সহযোগী একই গ্রামের নওসের সানার পুত্র পরসম্পদ লোভী আনুলিয়া পোষ্ট অফিসের পিওন জিয়ারুল ইসলাম কর্তৃক মির্জাপুর ভূমিহীন পল্লীর জমির জবর দখল নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাদেরকে ওখান থেকে উচ্ছেদ করার মহাপরিকল্পনা পাইতারা চালিয়ে যাচ্ছে।
একপর্যায়ে ইউপি সদস্য নিজে ভূমিহীন সেজে ও তার নিজ কিছু সুস্থ্য সফল ব্যক্তিদের নামে ডিসিআর পাইবার আবেদন করে সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও আনুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বুধবার সকালে সরজমিনে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
তদন্ত কালে মির্জাপুর ভূমিহীন পল্লীর দীর্ঘদিনের বসবাসরত অসহায় বাস্তহারা ভূমিহীন পরিবার সহ আশেপাশের লোকজন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বলেন বিগত ১৯৯৪ সাল হইতে ২০২২ সাল পর্যন্ত এজায়গার ভূমিহীনরা সরকারি রাজস্ব দিয়ে বৈধ ভাবে ডিসিআর নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করা সহ জীবিকা নির্বাহে ধান চাষ সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আসছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ধৈর্য্য সহকারে তাদের কথা শুনে ভূমিহীন পল্লীর মানুষদেরকে আস্বস্থ্য করে করে বলেন যে যতই পাইতারা করুক এ জমি পাইবার জন্য সরকারী নিয়মনীতি অনুযায়ী সরকারের অঙ্গীকার খাষ জমিতে ভুমিহীন বাস্তহারা অসহায়দের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয় নিয়ে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস গাজীর সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন বহু বছর যাবৎ মির্জাপুর গ্রামের বহু অসহায় ভ‚মিহীন পরিবার সরকারি রাজস্ব দিয়ে ডিসিআর নিয়ে সরকারি খাষ জমি শান্তি পূর্ন ভোগ দখলে রেখে বসবাস করে উপযোগী করে সেখানে মাথা গোজার ঠাই পেয়েছে তারা। বাকী অংশের জমিতে ধান্য সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন কেটুর ও তার সহযোগী আনুলিয়া পোষ্ট অফিসের পিওন জিয়ারুল ইসলাম কর্তৃক উপজেলার আনুলিয়া মির্জাপুরের ভূমিহীনদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে তাদেরকে জমি ছেড়ে চলে যেতে হুমকি ধামকী অব্যাহত রাখায় এ নিয়ে ভূমিহীন পল্লী অশান্ত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার বুধবার ১৪ই সেপ্টেম্বর সকালে আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের যাবেন।
এব্যাপারে ন্যায় বিচার চেয়ে ভূমিহীনদের অভিযোগ ও মেম্বার কর্তৃক ডিসিআর পাইবার আবেদনের শুনানী করবেন। মির্জাপুরের ভূমিহীন পল্লীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলা ভূমিহীন সমিতির নের্তৃবৃন্দ ও মির্জাপুরের ভূমিহীন পরিবার ও এলাকাবাসী।
