হোম অন্যান্যসারাদেশ আশাশুনির বড়দলে সঞ্জয়ের সুদের চক্রে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, বহু পরিবার আদালতে ভুমিহীন দম্পত্তির নামে ১৩ লক্ষ টাকার মামলা

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

আশাশুনির বড়দলে সঞ্জয়ের সুদের চক্রে নিঃস্ব হয়ে গেছে বহু পরিবার। কুখ্যাত সুদ খোরের হাত হইতে রেহাই পেতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিঃস্ব এ সকল পরিবার।

এ নিয়ে এলাকায় খোজ খবর নিতে গেলে কথা বড়দল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা হাফিজা খাতুন তমা ও ইউপি সদস্য চন্দ্রকান্ত মন্ডল, বড়দল ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সমবায় সমিতির সভাপতি বারেক, দীনমজুর রবিউল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি সাথে তারা বলেন চাম্পাখালী গ্রামের মৃত মাদার চন্দ্র মন্ডল এর পুত্র সঞ্জয় কুমার মন্ডল এর সুদের কারবার করে আসছে বহুদিন ধরে। তার কাছ থেকে অলিখিত চেক ষ্ট্যাম্প জামানত রেখে অনেক পরিবার প্রয়োজনে ত্রিশ হাজার থেকে শুরু করে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদে টাকা গ্রহন করে। প্রতিমাসে এ সুদের টাকা গুনতে গিয়ে যাহা স্বহায় সম্বল ছিল তাহা বেচে কিনে তাকে দিতে হয়েছে। যারা আসল টাকা ছাড়া সুদের দিতে পারিনি তাদের বিরুদ্ধে আইন আদালতে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে পাঁচ লক্ষ থেকে শুরু করে দশ লক্ষ টাকা পাওনা আছে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।

এমনি গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের স্বামী স্ত্রী দম্পত্তি আনিছ গাজী, মোছাঃ সালমা খাতুন প্রয়োজনে দুটি অলিখিত ষ্ট্যাম্প ও চেক জমা রেখে মাসে সাত শত টাকা চড়া সুদে প্রয়োজনে ষাট হাজার টাকা গ্রহন করে। খাওয়া হোক আর না হোক ঠিকঠাক মত প্র্রতি মাসে সাত শত সুদের টাকা কুখ্যাত সুদ খোর সঞ্জয় মন্ডল এর বাড়ীতে পৌছাইয়া দিয়েছেন। এর পরেও শোধ হয়নি তার সুদের টাকা ও কয়েক মাসের দেওয়া সুদের টাকা হিসাব করে বুঝা যায় আসল ষাট হাজার টাকা বাদেও সে প্রায় সমুদয় টাকা পেয়ে গেছে। আর যাতে সুদের টাকা না গুনতে হয় সে জন্য অতিকষ্টে তার কাছ থেকে নেওয়া সুদের ষাট হাজার টাকার মধ্যে বিশ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করে দেন।

বাকী চল্লিশ হাজার টাকা ম্যানেজ করে সুদখোর সঞ্জয়ের বাড়ীতে গিয়ে স্বামী স্ত্রী দম্পত্তি তার বাড়ীতে গিয়ে বলে তোমার বাকী চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে আমাদের চেক ও ষ্ট্যাম্প ফিরিয়ে দাও। এ সময় সুদখোর সঞ্জয় মন্ডল বলে তার কাছ থেকে নেওয়া ষাট হাজার টাকা নেওয়ার মধ্যে বিশ হাজার টাকা দেওয়ার পর পাওনা চল্লিশ হাজার টাকার বহুদিন লাভের টাকা দাওনি ফলে এখন চল্লিশ হাজার টাকা দিলে হবে না পাওনা হয়েছে অনেক টাকা। এর পরেও সব টাকা না দিয়ে কোন লজ্জায় চেক ও ষ্ট্যাম্প ফেরত চাচ্ছো। অনেক দেরি হওয়ায় তোমাদের মত আমার ও টাকার প্রয়োজন মেটাতে আমি গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলী গাজীর পুত্র আব্দুল খালেক গাজীর কাছে চেক ও ষ্ট্যাম্প হস্তান্তর করে আমি আমার পাওনা টাকা তার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছি।

এ চেক ষ্ট্যাম্প ভূমিহীন দম্পত্তির কাছে ফেরত না দিয়ে বে-আইনী ভাবে তাদের প্রতিপক্ষ শত্রুর কাছে অলিখিত চেক ও ষ্ট্যাম্প বিক্রয় করে দেওয়ায় আব্দুল খালেক গাজী স্বামী স্ত্রী দম্পত্তির নামে আদালতে ১৩ লক্ষ টাকা পাওনা আছে উল্লেখ করে হয়রানী মুলক মামলা দায়ের করে। যদি ঐ দম্পত্তি টাকা পরিশোধ না করে তাহলে সঞ্জয়কে তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারত। কিন্তু তা না করে অন্যের কাছে বেআইনীভাবে হস্তান্তর করাটা আইনকে অমান্য করা হয়েছে।

এমনি ভাবে ফকরাবাদ গ্রামের হাফিজুল ইসলাম, বারেক ও রবিউল এর উপস্থিতিতে গোয়ালডাঙ্গা চৈতান্য মজুমদার আশি হাজার টাকা মাসিক আট শত টাকা সুদে চেক ও ষ্ট্যাম্প রেখে টাকা গ্রহন করে। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সুদের কিস্তি বেড়ে ও আসল টাকা দিয়ে হাফিজুলের দশ লক্ষ টাকা পাওনা হয়েছে উল্লেখ করে চৈতান্য মজুমদার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সে বাড়ী ছেড়ে ভয়ে ভারতে অবস্থান করছে। অপরদিকে গোয়ালডঙ্গা গ্রামের খোকনের পুত্র তোহা এমনি ভাবে গোয়ালডঙ্গা বাজারে সুদে লক্ষ লক্ষ টাকা চেক ও ষ্ট্যাম্প রেখে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে টাকার কারবার করে। ফলে যে সমস্ত ব্যক্তিরা তার কাছ থেকে চল্লিশ ও প াশ হাজার টাকা গ্রহন করলে তাদেরকে মাসে ছয়শত টাকা করে চড়া সুদে লাভের টাকা গুনতে হয় তাদের। ঠিকঠাক মত টাকা দিতে না পারলে নেওয়া চল্লিশ হাজার টাকার জায়গায় চড়া সুদে চক্রহারে বৃদ্ধি করে তিন ডবলে পরিনত হওয়ায় তারা দিতে না পারায় তাদের কে দিনের পর দিন হুমকি ধামকি দেওয়া সহ টাকা আদায় করতে দিনের পর দিন তাদের বাড়ীতে যায় এসব সুদ খোর সহ তার সহযোগীরা।

এ টাকা আদায় করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে থানায়, ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম আদালত সহ বিজ্ঞ সাতক্ষীরা বিভিন্ন আদালতে টাকা নেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা পাবে উল্লেখ করে অলিখিত চেক ও ষ্ট্যাম্প পুরন করে মামলা দায়ের করে হয়রানী করে যাচ্ছে। ফলে এসব সুদের চক্রে পড়ে একদিকে যেমন নিঃস্ব হচ্ছে অন্যদিকে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজত খাটতে হচ্ছে নয়ত বাড়ী ঘর ছেড়ে দেশান্তরি হতে হয় তাদের।

এ সব অবৈধ সুদকারবারীদের কারনে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্য দিকে এ সুদ চক্রের পাল্লায় পড়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য পরিবার। এ বিষয়টি জরুরী পদ ক্ষেপের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে সুদ কারবারীদের হাত থেকে অসহায় পরিবার গুলির দাবী জানিয়ে প্রশাসনের আশু হন্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয় তিন সুদকারবারীর ব্যক্তিদের খোজে এলাকায় গেলে হাফিজুল ইসলামের সাথে দেখা হলে অন্য ২জনের সাথে দেখা মেলেনি। হাফিজুল বলে আমি সুদের কারবার করি না মানুষের প্রয়োজনে বিনা লাভে টাকা ধার দেই আদায় করতে না পারলে আইনের আশ্রয় নিতে হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন