হোম রাজনীতি আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির

আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 49 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিয়েছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে, নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথা গুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে গলা টিপে ধরেছে। সত্য কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে প্রধান অপরাধীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়। আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণজোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতা দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও; না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪ শত শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। এখানে (কুড়িগ্রামকে) কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণি-মুক্তায় ভরিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদী গুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার কর হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো।

এসময় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর সেতু করে এই তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলাম। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে এই জনপদে শিল্প কলকারখানা তৈরি করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করবো।

কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলা) আসনের এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে বিছিয়ে পড়া জনপদ। আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চাই। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতি প্রতিরোধ কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই। নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করতে চাই।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেন, ১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট। কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোনো চাঁদাবাজি, ছিনতাই থাকবে না, সব সিন্ডিকেট ভেঙে আমরা চুরমার করে দেবো। ‘হ্যাঁ’ ভোট হলো আজাদী আর ‘না’ হলো গোলামী। আমরা ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন