জাতীয় ডেস্ক :
মৌলভীবাজারে আবারও একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জুলাই) বিকালে মৌলভীবাজার শহরতলির ধরকাপন গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে বানরটিকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।
পরে প্রাণীটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপক ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্বপন দেব সজল জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাতে শহরতলির ধরকাপন গ্রামের জসিম মিয়া তার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে দেখতে পান দুটি কুকুর অন্ধকারের মধ্যে কোনো কিছুকে তাড়া করছে। একই সাথে এ গ্রামেরই কিছু ছেলেরাও প্রাণীর পিছু দৌড়াচ্ছে। তিনি কাছে গিয়ে দেখতে পান অদ্ভুত একটি প্রাণী বাড়ির বাউন্ডারির দেয়াল বেয়ে ধীর গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে এ প্রাণীটি পাকা রাস্তা অতিক্রম করতে চাইলে সেটিকে আটকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেটিকে তার বারান্দায় একটি বাঁশের খাঁচায় আটকে রাখেন। পরের দিন একটি এনজিওতে কর্মরত এক নারী এলাকায় কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণীটিকে দেখতে পান। তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে জসিম মিয়া লজ্জাবতী বানরটিকে কিভাবে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের হাতে কিভাবে তুলে দেয়া যায় জানতে চান। পরে ওই নারী বিষয়টি সুদীপ নামের এক যুবককে জানালে তিনি সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন।
পরে শনিবার (৩০ জুলাই) বিকালে স্বপন দেব সজল জসিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে উদ্ধার করেন। প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা ভালো থাকায় মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপক ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্বপন দেব সজল জানিয়েছেন, এ লজ্জাবতী বানরটি খুব সম্ভবত বর্ষিজুড়া ইকোপার্ক এলাকা থেকে লোকালয়ে বেড়িয়ে পড়ছে। ওই এলাকায় পাহাড় জঙ্গল কেটে ফেলায় খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে বন জঙ্গল থেকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসছে। গত দু’মাসে অন্তত ৮ থেকে ১০টি লজ্জাবতী এভাবে লোকালয়ে এসেছে।
বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, লজ্জাবতী বানর বাংলা লজ্জাবতী বানর (Bengal Slow Loris) নামেও পরিচিত। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা বনবিটসহ সিলেট ও চট্টগ্রামের ঘন গহীন বনে এদের দেখা যায়। নিশাচর এই প্রাণীটি গাছের উঁচু ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে ও খুব ধীরে চলাচল করে। বানরের অন্য প্রজাতির মতো যত্রতত্র ঘোরাঘুরি না করে সব সময় নিজেকে আড়াল রাখতে পছন্দ করে। মূলত গাছের কচিপাতা, আঠা, ফলমূল, ছোট পোকামাকড়, পাখির ডিম খেয়ে থাকে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে খাওয়ার জন্য এরা হাত ব্যবহার না করে সরাসরি মুখ লাগিয়ে খায়। বছরে একবার মাত্র একটি বাচ্চা দেয় এই প্রাণীটি।
তিনি বলেন, দেশের বনাঞ্চলে ঠিক কতটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে বন উজাড় এবং খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটের কারণে সুন্দর এই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে ‘সংকটাপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী আইন-১৯৭৪ ও বন্যপ্রাণী আইন-২০১২-এর তফসিল-১ অনুযায়ী এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা, শিকার বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
