ফুটবল বিশ্বকাপ :
কাতার বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলো। তবে নকআউট পর্বে এসে একে একে ঝরে পড়ছে ফুটবলে এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলো। এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে সেনেগাল, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। সবেধন নীলমণি হয়ে টিকে আছে মরক্কো। স্পেনের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর হাতে এশিয়া ও আফ্রিকার মশাল। পরিসংখ্যান অবশ্য স্প্যানিশদের পক্ষেই কথা বলছে। তবে অ্যাটলাস লায়নদের জন্যও আছে অনুপ্রেরণা।
গ্রুপ ‘এফ’ থেকে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া ও র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়ামকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেবে মরক্কো, এমন স্বপ্ন খুব কম মানুষই হয়ত দেখেছেন। তবে মরক্কোর এ প্রজন্মটা যে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে, সেটা জানা ছিল অনেকেরই। মাঠের খেলায় দেখা মিলেছে কতটা দুর্দান্ত দল অ্যাটলাস লায়নদের।
আশরাফ হাকিমি, হাকিম জিয়েখ, সোফিয়ানে বৌফল, নুসাইর মাজরাওয়ি, ইয়োসেফ এন-নেসায়রি, সোফিয়ান আমরাবাত; ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের পরিচিত সব নাম। মরক্কোর এই দলটাকে তাদের সোনালী প্রজন্ম হিসেবেই ধরা যায়। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’তে থাকা দলটা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। পর্তুগাল-ইরানের বিপক্ষে ন্যূনতম ব্যবধানে হারে তারা। তবে শেষ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে নিজেদের শক্তির কিছুটা জানান দেয় মরক্কো।
কাতার বিশ্বকাপেও কঠিন গ্রুপই পেয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, কানাডার সঙ্গে থাকা মরক্কো যে শেষ ষোলো পর্যন্ত যাবে এটা ভাবাই তো বাড়াবাড়ি। কিন্তু রূপকথার গল্প লিখতেই যেন কাতারে এসেছে অ্যাটলাস লায়নরা।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত মরক্কো। শক্তিশালী বেলজিয়াম ও কানাডাকে হারানো লায়নরা ড্র করেছে ক্রোয়াটদের সঙ্গে। ৪ গোল করার বিপরীতে খেয়েছে মোটে ১ গোল।
অন্যদিকে স্পেন গ্রুপ পর্বে কোস্টারিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের দেখা পেলেও ড্র করে জার্মানির সঙ্গে। শেষ ম্যাচে তো জাপানের বিপক্ষে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে গোল ব্যবধানে।
তবে সাম্প্রতিক ফর্মে এগিয়ে থাকলেও ইতিহাস পিছিয়ে রেখেছে মরোক্কানদের। এখন পর্যন্ত ৩ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে এই দুই প্রতিবেশী দেশ। দুবার জয় পায় স্পেন, ড্র হয় একবার।
জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে আলাদা হওয়া দেশ দুটি প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৬২ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে সিএআফ-ইউরোপ প্লে অফের দুই লেগে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ১২ নভেম্বর প্রথম দেখায় ১-০ গোলে জয় পায় স্পেন। ফিরতি লেগের খেলায় ২৩ নভেম্বরও জয়ের দেখা পায় স্পেন। এবার অবশ্য জমে উঠেছিল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার মানে মরক্কো।
তবে শেষ দেখায় জয় পায়নি স্পেন। গত বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন-মরক্কো। ম্যাচটিতে জয়ের পথেই ছিল মরক্কো। কিন্তু ইয়াগো আসপাসের শেষ মিনিটের গোলে স্পেন ২-২ গোলে ড্র করে ম্যাচটি।
কাতার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যেমন ফুটবল খেলেছে মরক্কো, তাতে বেশ জমজমাট ম্যাচের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলেই বিশ্বাসী দুদল। এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে এবার আর ভুল করতে চায় না আফ্রিকার দেশটি। প্রতিবেশী স্পেনে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন দলটায়। তাই শক্তি-দুর্বলতা বেশ ভালো জানা তাদের। যা কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ আটে পা রাখতে চায় অ্যাটলাস লায়নরা।
