হোম আন্তর্জাতিক অ্যাসাঞ্জের মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বহুল আলোচিত সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও দ্রুত মুক্তির আহ্বান ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এবার তার মামলা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) পার্লামেন্টে এমপিদে দেয়া এক বক্তব্যে আলবানিজ জানান, অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কথায়, ‘একটু আগে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি বলেছি, যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। বিষয়টা নিয়ে এবার একটা উপসংহারে আসা উচিৎ।’

আলবানিজ আরও বলেন, ‘বিষয়টা আমি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে আমার অবস্থান পরিস্কার।’ অস্ট্রেলিয়ার এ নেতা বলেন, ৫১ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জের অনেক কাজের ব্যাপারে তিনি একমত নন। এরপরও তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নিস্পত্তি চান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে লন্ডনের একটি কারাগারে বন্দি। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা মামলায় তাকে চলতি বছরের জুন মাসে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য সরকার।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যার্পণ ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আর্জি জানিয়ে আসছিল অ্যাসাঞ্জের পরিবার। বুধবার (৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজর কাছে এ আহ্বান জানান অ্যাসাঞ্জের বাবা জন শিপটন ও ভাই গ্যাব্রিয়েল শিপটন।

এর আগে মার্কিন সরকারের প্রতি এমনই জোরালো আহ্বান জানায় বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যম। তারা বলেছে, উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) একটি খোলা চিঠি লিখেছে বিশ্বের প্রধান পাঁচটি সংবাদমাধ্যম। এগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের লে মন্ডে, জার্মানির ডের স্পিগেল ও স্পেনের পাইস।

চিঠিতে খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও প্রকাশকরা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচার বাজে ও বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করছে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দেশে দেশে সরকারগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান কাজ।’ চিঠিতে তারা আরও বলেন, ‘তথ্য প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়।’

২০০৬ সালে উইকিলিকস চালু করেন অ্যাসাঞ্জ। এতে তিনি একের পর এক গোপন মার্কিন নথি প্রকাশ করতে থাকেন। ২০১০ সালের জুলাইয়ে উইকিলিকস ‘ক্যাবলগেট’ নামে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের প্রায় ৭০ হাজার নথি প্রকাশ করেছিল। এসব তথ্য পরে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক স্তরে দুর্নীতি, কূটনৈতিক কেলেঙ্কারি, গুপ্তচরবিষয়ক ২ লাখ ৫১ হাজার গোপন নথি প্রকাশ করে অ্যাসাঞ্জের উইকিলিকস। সংবাদমাধ্যমটির সূত্র ব্যবহার করে সেই সময় নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, লে মন্ডে, ডের স্পিগেল ও এল পাইস ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এ কারণে বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এরপর থেকে গ্রেফতার এড়াতে সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে লন্ডন পুলিশ।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একটি নিম্ন আদালত এক দশক আগে গোপন মার্কিন সামরিক নথি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তখন আদালত বলেন, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে না। তার মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে।

তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যকে বলা হয়, যদি তারা অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরে সম্মত হয়, তবে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা তার জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো মার্কিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে পারবেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন