জাতীয় ডেস্ক :
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ফরিদুল হক বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ অঞ্চলের সভ্যতা বিনির্মাণে বৌদ্ধ ধর্মের অসংখ্য নিদর্শন এখনও আমাদের কাছে দীপ্তমান। সৌমপুর বিহার, ময়নামতি বিহার, আদি কবিদের রচিত চর্যাপদ এ অঞ্চলে উন্নত বৌদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের উদ্যোগে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নব গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টিবৃন্দকে সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের মতো দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গত ১২ বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আমানত ৩ কোটি টাকা হতে ৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ‘প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথিমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রকল্প’ ২য় পর্যায়ে ১২টি জেলার ৬২টি উপজেলায় ৩০০টি শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ২০ হাজার বৌদ্ধ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। ৩০০ জন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থায়নে নেপালের লুম্বিনীতে একটি বৌদ্ধবিহার নির্মাণের লক্ষ্যে ৬০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার একটি ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। নেপাল সরকার বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আশ্রম বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের অনুকূলে একটি প্লট বরাদ্দ প্রদান করেছে।
ফরিদুল হক বলেন, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সিনিয়র সহসভাপতি জ্ঞাননন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বেগম আরমা দত্ত এম.পি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়ূয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান বাবু অজিত রঞ্জন বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সিনিয়র সহসভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত, বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার মহাসচিব ভদন্ত বোধিমিত্র মহাথেরো, আশুলিয়া বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিদর্শনাচার্য আশিন জিনরক্ষিত মহাথের প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের নবগঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি মিথুন রস্মি বড়ুয়া, ববিতা বড়ুয়া, রূপনা চাকমা, মং ক্য চিং চৌধুরী, রঞ্জন বড়ুয়া, জয় সেন তঞ্চঙ্গা, জ্যোতিষ সিংহকে ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সভায় বৌদ্ধ ভিক্ষুবৃন্দ, বৌদ্ধ ধর্মগুরুগণ, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক অনুসারী ভক্তবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
