হোম অর্থ ও বাণিজ্য অর্থবছর ২০২২-২৩: সম্ভাবনা ও ‘শঙ্কা’র বাজেট

বাণিজ্য ডেস্ক :

‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে উত্থাপিত হলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন করেন। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সামনে রেখে এবারের বাজেটকে অনেকেই বলছেন সম্ভাবনাময় ও চ্যালেঞ্জিং।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া মূল বাজেটের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। সে হিসাবে নতুন বছরের উত্থাপিত বাজেট এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এবারের বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরবহির্ভূত কর ১৮ হাজার কোটি টাকা, করছাড় প্রাপ্তি ৪৩ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।

বরাবরের মতো এবারও উত্থাপিত বাজেটকে ঘাটতি বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উত্থাপিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ আসবে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে আসবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেটে এডিপিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রধান তিন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ

শিক্ষা
এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ সবার নজর কেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ বেড়েছে ৯ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য করা হয়েছিল ৩৬ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর বরাদ্দ করা হয়েছিল ৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য

২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। গত অর্থবছর (২০২১-২২) এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকায়।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রমসহ কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা প্রস্তাব করছি, যা গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা ছিল।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, “জনস্বাস্থ্য ও জনজীবনের ওপর ‘কোভিড-১৯’ অতিমারির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন অব্যাহত রাখা, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ, যথাসময়ে কোভিড ভ্যাকসিন ক্রয় এবং পর্যায়ক্রমে তা জনসাধারণের মধ্যে প্রয়োগ করার মতো অতি জরুরি পদক্ষেপ আমরা যথাসময়ে গ্রহণ করেছি। ফলে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।’

কৃষি
কৃষিক্ষেত্রে (কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) সার্বিক উন্নয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা ছিল। বরাদ্দ বেড়েছে ৯ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা।

কৃষিখাত সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সরকারের মৎস্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং চাষি ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক ও লাগসই কারিগরি পরিষেবা প্রদানের ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ টন, যা ২০০৯-১০ সালের মোট উৎপাদনের চেয়ে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। এ ছাড়া বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ ও এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। বিশেষ সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়ান্স ও ফিনফিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৮ম ও ১২তম স্থানে রয়েছে।

দাম বাড়বে যেসব পণ্যের

বরাবরের মতো এবারের বাজেটেও দাম বাড়ছে বেশ কিছু পণ্যের। এর মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যই আমদানি করা।

আমদানি করা পনির ও দই-এর ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি পনির ও দইয়ের দাম বাড়তে পারে। আমদানি করা তৈরি পোশাকে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি পোশাকের দাম বাড়বে। দাম বেড়েছে বিলাসবহুল গাড়ির। রিকন্ডিশনড ও হাইব্রিড গাড়িতে ২ হাজার সিসি থেকে ৪ হাজার সিসিতে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাজেটে তামাকপণ্য সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সিগারেটের নিম্নস্তরের দশ শলাকার দাম ৩৯ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ও সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কমদামি সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পাবে।

সিগারেটের পাশাপাশি দাম বাড়বে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের। বাজেটে আমদানি করা ল্যাপটপের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়াও বাজেটে গুঁড়া দুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ছে বডি স্প্রে, প্রসাধনী পণ্য, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্য ও কফির।

নতুন অর্থবছরের উত্থাপিত বাজেটে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, অপরিশোধিত আলকাতরা, বিদেশি পাখি, প্রিন্টিং প্লেট, ক্যাশ রেজিস্টার, ফ্যান, মোটর, লাইটার, দুই স্ট্রোক ও ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিনের সিএনজি, কম্পিউটার প্রিন্টার ও টোনার, আমদানি করা মোবাইল চার্জার, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আমদানি করা পেপার কাপ ও প্লেটের দাম বেড়েছে।

দাম কমবে যেসব পণ্যের

এবার বাজেটে সোনার দাম কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের প্রসারে সোনা আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে কম দামে স্বর্ণালংকার পাওয়া যাবে।

বাজেটে দাম কমেছে হুইলচেয়ার ও শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রের। শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। হুইলচেয়ারে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১০ শতাংশ অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দাম কমবে পানির ফিল্টার, বিমানের জন্য ব্যবহৃত টায়ার, কাজু-বাদাম ও পেস্তা বাদামের।

বাজেটে ঘোষিত বিশেষ সুবিধা

সবার জন্য পেনশন
২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারিভাবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পেনশন প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আমি সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি, সরকার আগামী অর্থবছর সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ভাতার আওতা বৃদ্ধি

নতুন উত্থাপিত বাজেটে ভাতার আওতায় আরও ২ লাখ ৯ হাজার নারী-শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ লাখ ৫৪ হাজার নারী ও শিশু ভাতার আওতাভুক্ত হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরের উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৪৫ হাজার।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী উপবৃত্তি কার্যক্রমে এবং দারিদ্র্য নিরসন কর্মসূচির আওতায় পল্লি ও শহর সমাজসেবা কার্যক্রম, অ্যাসিড দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে শতকরা ৫০ ভাগ নারী এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা দুস্থ মহিলা ভাতা এবং পল্লি মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমে শতকরা ১০০ ভাগ নারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাচারের টাকা বৈধকরণ

দেশ থেকে বিভিন্নভাবে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের বৈধতা দিতে বাজেটে প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কর দিয়ে এসব অর্থ বৈধ করা হলে আয়কর কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এর বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী বিদেশে অবস্থিত যে কোনো সম্পদের ওপর কর পরিশোধ করা হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ যে কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করবে না। বিদেশে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে আনা না হলে এর ওপর ১৫ শতাংশ, বিদেশে থাকা অস্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে আনা না হলে ১০ শতাংশ ও বাংলাদেশে পাঠানো (রেমিটকৃত) নগদ অর্থের ওপর ৭ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করেন তিনি। এ সুবিধা ২০২২ সালের ১ জুলাই হতে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে অর্থনীতির মূল স্রোতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, আয়কর রাজস্ব আহরণ বাড়বে; আর করদাতারাও বিদেশে অর্জিত অর্থ-সম্পদ আয়কর রিটার্নে প্রদর্শনের সুযোগ পেয়ে স্বস্তিবোধ করবেন।

বিদেশে চাকরির সুযোগ

নতুন অর্থবছরে সরকার ৮ লাখ ১০ হাজার কর্মীকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্টগুলোর কার্যক্রম প্রতিনিয়ত তদারকির ফলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়েছে। কর্মী নিয়োগে পেশাভিত্তিক ডেটাবেজ, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভিসা যাচাই, অভিবাসনবিষয়ক অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক পোর্টাল, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্যক্রম অটোমেশন ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে এ খাতকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ে ১০০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুধু করা হবে। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছর ৮ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং ৫ লাখ ২০ হাজার জনকে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৫ টাকা কেজিদরে চাল বিক্রি

বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে নিম্ন আয়ের ৫০ লাখ পরিবার বছরে পাঁচ মাস ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাবে। প্রতিটি পরিবার এ দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবে।

এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরেও এ কর্মসূচিতে ৫ দশমিক ৭০ লাখ টন চাল ও ৪ দশমিক ৮৫ লাখ টন আটা বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা ২০২২-২৩ অর্থবছরেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। ৫০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে বছরের কর্মহীন সময় যথা: সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল–এই পাঁচ মাস ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে। পরিবারপ্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়া হবে।

২ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ

আগামী ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৯৪৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, দেশের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের মাধ্যমে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি)-৩য় পর্যায় (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এযাবৎ ৮ হাজার ৮২৮টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮২ জন সুবিধাভোগীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আগামী ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৯৪৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমন সময় নতুন অর্থবছরের বাজেট উত্থাপিত হলো যখন বিশ্ব করোনা-পরবর্তী সংকট সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে, চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জাতিসংঘ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে, বিশ্বব্যাংক মন্দার ভয় দেখাচ্ছে, দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি নতুন রেকর্ড গড়ছে, দেশীয় রেমিট্যান্স নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস। এসব চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এবারের বাজেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও শক্তিশালী করা, মুদ্রাস্ফীতি সামাল দেয়া ও দেশজ সম্পদ ও বিনিয়োগকে আরও বিস্তৃত করা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন