হোম আন্তর্জাতিক তথ্য সুরক্ষা খসড়া বিল নিয়ে ভারতজুড়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা খসড়া বিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভারতে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে। খসড়া চূড়ান্ত হলে সংবিধানস্বীকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

ভারতের বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, নাগরিক অধিকার রক্ষার চেয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিকে নজর বেশি বিজেপি সরকারের। যদিও মোদি প্রশাসন বলছে, দেশের সংহতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ বিলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খবর দ্য হিন্দুর।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা খসড়া বিল উত্থাপন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয়েছে আলোচনা। সরকারের সীমাহীন ক্ষমতার প্রশ্নে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খসড়া চূড়ান্ত হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি নজরদারিও বাড়বে।

বিরোধীদলের দাবি, এই বিল যতটা ব্যক্তি অধিকার রক্ষায়, এতে তার চেয়ে অনেক বেশি নজর দেয়া হয়েছে কীভাবে সরকার সব ক্ষমতা ও অধিকার কুক্ষিগত করে ইচ্ছেমতো তা প্রয়োগ করতে পারে, সেদিকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন খসড়ায় জনগণের তথ্য সুরক্ষার নামে ‘আপত্তিকর’ বেশ কিছু বিষয় রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর ক্ষমতার ব্যাপ্তিও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিলটিকে দেশের সংহতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করছে মোদি প্রশাসন। ডিজিটাল জগতে ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য নিরাপদ রাখা এ বিলের উদ্দেশ্য বলেও জানিয়েছে সরকার।

বিলটি পাস হলে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে। এমনকি তথ্যের অপব্যবহার করলে খসড়া বিলে আড়াইশ’ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যক্তিগত সুরক্ষা আইনের খসড়া বিল নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রথম এনেছিল ২০১৯ সালে। সেই বিলে রাষ্ট্রীয় ও সরকারের ক্ষমতা নিয়ে সরব হয় বিভিন্ন মহল। বিরোধীদের তীব্র আপত্তিতে ভারত সরকার ২০২২ সালের ৩ আগস্ট ওই বিল প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে আবারও বিলের নতুন খসড়া প্রকাশ করা হলো। শীতকালীন অধিবেশনে বিলটি সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন