আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করায় বুলগেরিয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ নভেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইনজীবীরা।
আসামিদের মধ্যে তিনজন মলদোভীয় বংশোদ্ভূত পুরুষ। আর দুইজন সিরীয় কুর্দি বংশোদ্ভূত। এর মধ্যে একজন পুরুষ ও অপরজন নারী। চলতি সপ্তাহে বুলগেরিয়ার বিশেষ পুলিশ বাহিনী তাদের সবাইকে আটক করে।
গত ১৩ নভেম্বর ইস্তাম্বুলের ব্যস্ততম এলাকা ইস্তিকরাল এভিনিউয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এতে ৮ জন নিহত হয়। আহত হন আরও প্রায় একশজন। ঘটনাস্থলে বোমা রেখে যাওয়া সন্দেহভাজন এক নারীসহ ৪৬ জনকে আটক করেছে তুর্কি পুলিশ।
হামলার ঘটনায় তুরস্কের সহযোগিতায় তদন্ত শুরু করে প্রতিবেশি দেশ বুলগেরিয়ার পুলিশ বাহিনীও। শনিবার দেশটির প্রধান কৌশুলী ইভান গেশেভ বলেন, ব্যাপক অভিযান ও তদন্তের পর চলতি সপ্তাহে ৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে তাদের বিশেষ পুলিশ বাহিনী।
গেশেভের কথায়, ‘ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ আনা হয়েছে দুই ভাগে-এক. অন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য ও দুই. মানবপাচারের জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই লোকগুলো প্রধানত আন্ত:সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।’
হামলায় জড়িত থাকায় আটক সন্দেহভাজনদের প্রত্যাবাসনে বুলগেরিয়া সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিস্ফোরণে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক সন্দেহভাজনদের মধ্যে ১৭ জনকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত। এদের মধ্যে গত সপ্তাহে আটক সন্দেহভাজন হামলাকারী সিরীয় বংশোদ্ভূত আলহাম আলবাসিরও রয়েছেন।
গত সপ্তাহের ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই দায় স্বীকার করেনি। ওইদিন এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলেও মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ বিস্ফোরণের জন্য কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তুর্কি পুলিশের সন্দেহ, হামলাকারীকে সিরিয়ার কুর্দি জঙ্গি গোষ্ঠী প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
