হোম অন্যান্যসারাদেশ ময়না তদন্ত রিপোর্ট : মনিরামপুরে প্রাইভেটকার চালক ইয়াসিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়

রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) :

মনিরামপুরে প্রাইভেটকার চালক ইয়াছিন আরাফাত (৩৩) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে এই হত্যার আলামত বেরিয়ে এসেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার গালদহ গ্রামের নিজ বাড়ি হতে ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে নিহত ইয়াসিনের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। তবে, এই হত্যাকান্ডের কোন ক্লু এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ইয়াসিনের একাধিক বিয়ে, জমি নিয়ে বিরোধসহ পুলিশ নানা বিষয় সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে বলে জানাগেছে।

এদিকে ময়না তদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি বেরিয়ে আসায় পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হত্যা রহস্য উন্মোচনে তদন্ত করে চলেছে। পুলিশ হত্যাকান্ডের দুই মাস পর নিহত ইয়াসিন আরাফাতের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপতত কিছু বলতে নারাজ। তাদের দাবি দ্রুতই হত্যা রহস্য উন্মোচন হবে।

একটি সূত্র জানায়, পুলিশ হত্যাকান্ডে ইয়াসিনের একাধিক বিয়ে, জমি-জমা নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধসহ কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে। ১৮ বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে নিহত ইয়াছিন আরাফাতের বাবা মোতালেব হোসেন উপজেলার এই গ্রামে জমি কিনে বসতি গড়েন। ১০ বছর আগে ইয়াসিন পার্শ্ববর্তী ঝাঁপা গ্রামে জোসনা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের আব্দুল্লাহ নামের ৭ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নিহত ইয়াসিন ও জোছনার সাংসরিক জীবন সুখের ছিল না। বিয়ের ৩ বছর পর গর্ভে সন্তান আসলে জোছনা বাবার বাড়ি চলে যান। এসময় বাড়িতে ইয়াসিনের রান্নার জন্য জোছনার বড় বোন আসেন। এক পর্যায় তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করে ফেলেন ইয়াসিন। পরে ইয়াসিনের স্বজন ও গ্রামবাসির চাপে বিয়ে ছাড়াছাড়ি হয়।

এরমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল হওয়ায় ইয়াসিন তার প্রথম স্ত্রী জোছনাকে তিন বার তালাক দেয়। পরে বাড়ির পাশে নূরজাহান খাতুন কালি নামের এক নারীকে বিয়ে করেন ইয়াসিন। বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যে নূরজাহান খাতুনের সাথেও ডিভোর্স হয়। ফের তালাকপ্রাপ্তা প্রথম স্ত্রী জোছনাকে ঘরে তোলেন ইয়াসিন। তবে, ইয়াসিন মারা যাবার সময় ঘরে কেউ ছিলেন না। ইয়াসিনের স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি ছিলেন। তিন ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার ছোট ইয়াসিনসহ তার দুই বোন এই এলাকায় থাকতেন। পৈত্রিক ২৫ শতাংশ জমিতে থাকতেন ইয়াসিন ও হামিদা খাতুন নামের তার এক বোন। বোনের সাথে বনিবনায় না হওয়ায় জমি বিক্রি অন্যত্রে চলে যেতে চাইছিলেন ইয়াসিন। কিন্তু বোন হামিদা পৈত্রিক জমিতে থেকে যেতে চাইছিলেন এই নিয়ে তাদের ভাই-বোনের মধ্যে মনোমলিন্য চলছিল।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই সৌমেন বিশ্বাস জানান, তিনি গত ৩১ অক্টোবর ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। রিপোর্টে ইয়াসিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু না বললেও দ্রুতই হত্যা রহস্য উন্মোচনের ব্যাপারে আশাবাদি তিনি।

তিনি আরও জানান, ওই দিনই নিহত ইয়াসিনের বোন ফরিদা খাতুন বাদি হয়ে অজ্ঞাতানামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। যার মামলা নং ৩৫। মামলার বাদী নিহত ইয়াসিনের বোন ফরিদা খাতুনের দাবি, ভাইয়ের হত্যা রহস্য উন্মোচন করে জড়িতদের আটক করা হোক।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন