বিনোদন ডেস্ক :
জীবিকার তাগিদে তখন স্পটবয়ের কাজ করছেন। রেখা ও অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত সিনেমা ‘দো আনজানে’র সেটে তিনি রেখা ও অমিতাভের স্পটবয় ছিলেন। ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি।
সত্তরের দশকে ভারতীয় শোবিজে মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন এক নতুন ঝড়ের নাম। বক্স অফিসে উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট সিনেমা। নিজেই ভাঙতেন নিজের রেকর্ড। গুণী এই অভিনেতার ছোট থেকেই ছিল নাচের প্রতি তীব্র ইচ্ছা।
সেই ইচ্ছাই তাকে বানিয়ে তুলেছিল ডিসকো ডান্সার। শোবিজ অঙ্গনে শুরু থেকেই মিঠুনের সুনাম রয়েছে, কোনোদিন নিজের গুণ নিয়ে বিন্দুমাত্র অহংকার করেননি এ ডিসকো ডান্সার। পদে পদে বলতেন, যা হচ্ছে তা ভাগ্যের জন্য, আর যা হবে তা-ও ভাগ্যের জন্যই। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেন মিঠুন চক্রবর্তী।
প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বারবার তাকে গায়ের রং নিয়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে। তিনি এখন ‘মহাগুরু’ মিথুন চক্রবর্তী। সম্প্রতি ‘সারেগামাপা লিটল চ্যম্পস’-এর মঞ্চে তিনি আসেন পদ্মিনী কোলাপুরীর সঙ্গে। সেখানে এসেই অভিনেতা জানান, তিনি চান না তার কোনো বায়োপিক কখনো বানানো হোক।
‘লিটল চ্যাম্পস’-এর ডিস্কো স্পেশাল পর্বে এসে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়েই খানিকটা অভিমানী মহাগুরু। কণ্ঠে ধরা দিল ফেলে আসা দিনগুলোর তরতাজা স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘‘আমি কখনো চাইব না, আমি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা অন্য কেউ ভোগ করুক। নিজের গায়ের রঙের জন্য পদে পদে হেনস্তা হতে হয়েছে আমাকে। চূড়ান্ত অসম্মানের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমন দিন গিয়েছে যে, খালিপেটে ঘুমাতে হয়েছে। একা একাই কেঁদেছি। এমন অনেক দিন হয়েছে, যখন ফুটপাতই ছিল আমার আশ্রয়।’
অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমি চাই না, আমি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, অন্য কেউ সেই কষ্টের মুখোমুখি হোক। সে কারণে চাই না, আমার বায়োপিক তৈরি হোক।’ মহাগুরুর কথায়: ‘আমার জীবন কাউকে প্রভাবিত করবে না। বরং উল্টোটাই হতে পারে। মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারে। তেমনটা হোক, সেটা আমি চাই না। আমি কিংবদন্তি হতে পেরেছি অসংখ্য হিট ছবি দিয়েছি বলে নয়; বরং আমি আমার কষ্টগুলো চেপে রেখেছি, সে জন্যই।’
মিঠুন চক্রবর্তীকে শেষ দেখা গিয়েছিল ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবিতে। আগামী মাসে মুক্তি পাবে তার বাংলা ছবি ‘প্রজাপতি’।
সূত্র: আনন্দবাজার
