হোম আন্তর্জাতিক খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে পুতিন নীরব কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইউক্রেনের খেরসন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়া হলেও, এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার নিশ্চুপ থাকা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খেরসনে সেনা প্রত্যাহারকে চলমান যুদ্ধে পুতিনের একটি বড় হার হিসেবে দেখলেও, সিদ্ধান্তটিকে আন্তর্জাতিক অনেক বিশ্লেষক রুশ প্রেসিডেন্টের নতুন কৌশল হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই খেরসন শহর দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। দেশটির যেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে আছে, তার মধ্যে খেরসনই একমাত্র আঞ্চলিক রাজধানী। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে গণভোটের আয়োজন করে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নেয়, এর মধ্যেও একটি খেরসন।

কিন্তু গত বুধবার (৯ নভেম্বর) হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ ওই শহরটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। তবে পুতিন নন, খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ঘোষণা দেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কমান্ডার জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিন। রুশ প্রেসিডেন্ট কেন এখনও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আসছে নানা ব্যাখ্যা। রাশিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউক্রেনে যুদ্ধরত সেনাদের দুঃসংবাদ দিতে চাননি পুতিন। এছাড়া সেনাদের পিছু হটানোর মতো বিষয়ের দায় পুতিন নিজের কাঁধে নিতে চাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধের গতি কমিয়ে নতুন সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য সময় দেয়াও পুতিনের লক্ষ্য ছিল বলে দাবি ওই সাবেক রুশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। এর আগে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব খারকিভ থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের সময়ও পুতিন নিশ্চুপ ছিলেন বলেও জানান তিনি।

খারকিভ থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বহু সামরিক সরঞ্জাম ফেলে যায় রুশ সেনারা। তবে এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। খেরসন শহরসহ নিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীটির পূর্ব তীরে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করে মস্কো। সেখানেই সেনাসদস্যদের অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেকের ধারণা, রাশিয়া এই সেনাদের সহজেই আশপাশের দোনবাস বা জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে সরিয়ে নিতে পারে।

অন্যদিকে খেরসন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারকে চলমান যুদ্ধে পুতিনের একটি বড় হার হিসেবে দেখছে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো। হেরে যাবেন বুঝতে পেরেই রুশ প্রেসিডেন্ট এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন বলেও দাবি তাদের।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন