জাতীয় ডেস্ক :
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আপনাদের ট্যাক্স দিতে এখন আর সিটি করপোরেশনে যেতে হবে না, বাসায় বসে নিজেই নিজের ট্যাক্স অনলাইনে দিতে পারবেন। এছাড়া খুব শিগগিরই ট্রেড লাইসেন্সও অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকালে মিরপুরে মণিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩নম্বর ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র আতিকুল বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারি। এইযে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু কিন্তু বাসার পরিষ্কার পানিতেই বাসা বাঁধে। তাই ‘তিনদিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’, তাহলেই এডিস মশা আর হবে না।
‘আমি নগর সেবক, নগর পিতা নই’ মন্তব্য করে মেয়র বলেন, সবাই আমরা এক কাতারে। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে তাদের সেবা করার জন্য। আমি যদি ভোটের জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যেতে পারি তাহলে মেয়র হওয়ার পর কেন যাব না?
তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আপনাদের সেবা করতে চাই। দায়িত্ব থেকে আমরা কাজ করছি। আমি ভোটে নির্বাচিত হলাম, মানুষের সেবা করলাম না। আমি তো তাহলে প্রতারণা করলাম। ভবিষ্যত প্রজন্ম এটা মেনে নেবে না।
আতিকুল বলেন, আমাদের কাউন্সিলররা যদি মতবিনিময় সভা করেন, সবার সাথে কথা বলেন, এলাকাবাসীর সমস্যা শুনে কাজ করেন তাহলেই অনেক কাজ এগিয়ে যায়। অনেক সময় টোটকা চিকিৎসা দিলেই ছোট ছোট বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। মনে করেন কোথাও পানি জমে আছে, কেন জমে আছে, কোথায় পানিটা আটকে আছে সেটা বের করেন। এরপর পানি যেখানে আটকে আছে সেটা ক্লিয়ার করে দিলেই পানিটা সরে যাবে।
কল্যাণপুর খালে যারা অবৈধ দখল করেছেন তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র বলেন, ‘আপনারা নিজেরা সরে যান, নইলে আমি ভেঙে দেব। তখন আমার কাছে এসে লাভ নেই। খালগুলো থাকতে হবে, খালগুলো না থাকলে আমরাই বিপদে পড়ব। পরিবেশ আমাদের ছেড়ে দেবে না।’
মেট্রোরেলের সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, ইনডোর করিডোর ম্যানেজমেন্ট (আইসিএম) নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে মেট্রোরেল থেকে নেমে আপনি সাচ্ছন্দ্যে বাসায় যেতে পারেন। আমি যে এলাকা থেকে যত বেশি টাকা আদায় করতে পারব, সেই এলাকায় তত বেশি বরাদ্দ দেব।
সভায় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লা মেয়রকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি যদি আমাকে ফুয়েল না দেন তাহলে আমি কাজ করতে পারব না। ক্যানসার রূপে চিহ্নিত ছিল যে ওয়ার্ড সে ওয়ার্ড এখন অনেক ইমপ্রুভ করেছে। ১৩নম্বর ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা যেমন দূর হয়েছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা যেমন হচ্ছে, তেমনি আমাদের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে আপনি সহযোগিতা করবেন।
এ সময় স্থানীয়রা তাদের খেলার মাঠ নেই বলে অভিযোগ করেন। মাহবুব নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের খেলার মাঠ নেই। আমাদের শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশে খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা অনেক। আমাদের একটি খেলার মাঠ প্রয়োজন।
