বাণিজ্য ডেস্ক :
খোরশেদ আলম বেসরকারি একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। সম্প্রতি ঠিক করেছেন গাড়ি কিনবেন। কিন্তু দেশের গাড়ির দাম দেখেশুনে চক্ষু চড়ক গাছ।
খোরশেদ আলম সময় সংবাদকে বলেন, গাড়ির দাম শুনে মনে হচ্ছে, গাড়ি কেনা আর হাতি কেনা সমান। আমাদের দেশের বাইরে গাড়ির দাম কিন্তু অনেক কম। আমাদের এখানে একদম উল্টো চিত্র।
এ দেশের মধ্যবিত্তদের একটি স্বপ্ন থাকে গাড়ি কেনার। কিন্তু যে হারে গাড়ির দাম বাড়ছে তাতে করে অনেকের ক্ষেত্রেই স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে। দেশে মূলত দু’ধরনের গাড়ি পাওয়া যায়- নতুন ও রিকন্ডিশন্ড। মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের পছন্দ রিকন্ডশন্ড গাড়ি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আছে। মূলত যেসব গাড়ি জাপানে ১-৫ বছর চলার পরে বাংলাদেশের বাজারে আসে, সেগুলোকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি হিসেবে ধরা হয়। বাজারে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কম বলেই চাহিদা বেশি।
কিন্তু দিনকে দিন বাজারে বাড়ছে নতুন গাড়ির চাহিদা। ক’বছর আগেও রাজধানীর রাস্তায় এত মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, অডি বা রেঞ্জ রোভার দেখা যেত না, যা এখন সচরাচর দেখা যায়। কিন্তু মধ্যবিত্তের জন্য এসব বিলাসবহুল গাড়ি কেনা এক রকমের ছেড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো।
দেশের বাজারে গাড়ির দাম বেশি হওয়ার মূল কারণ উচ্চ করহার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুসারে, ২ হাজার ১ সিসি থেকে ৩ হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ২০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ শতাংশ করা হয়েছে। ৩ হাজার ১ সিসি থেকে ৪ হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩৫০ শতাংশ থেকে ৫০০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ একশ’ টাকার জিনিসে সম্পূরক করের জন্য আলাদা করে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা- যা গাড়ির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ।
এছাড়া চলতি বছর বাজেটে হাইব্রিড গাড়ির (নতুন ও রিকন্ডিশন্ড) সম্পূরক শুল্কও বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে ২ হাজার ১ সিসি থেকে ২ হাজার ৫০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। ২ হাজার ৫০১ সিসি থেকে ৩ হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৬০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ শতাংশ। ৩ হাজার ১ সিসি থেকে ৪ হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ হয়েছে। ৪ হাজার সিসির ঊর্ধ্বের হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০০ থেকে ৩৫০ শতাংশ হয়েছে।
গাড়িতে করহার এত বেশি কেন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজস্ব কর্মকর্তা সময় সংবাদকে বলেন, ‘যারা গাড়ি কিনতে পারে তাদেরকে আমরা স্বচ্ছল হিসেবে ধরে নেই। আর দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনাও একটি ব্যাপার। গাড়ির দাম কম হলে, সবাই চাইবে গাড়ি কিনতে। এতে করে রাস্তাঘাটে জ্যাম আরও বাড়বে।’
