হোম অন্যান্যসারাদেশ শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শংকা!

অনলাইন ডেস্ক :

নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় এলাকাজুড়ে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রোববার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে থমথমে আবহাওয়ার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও বিকালের পর তা বেড়েছে। সেই সাথে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলবাসীর মনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। জলোচ্ছ্বাসের শংকায় রীতিমত আতংকিত হয়ে পড়েছে তারা।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও শীট দিয়ে শ্যামনগরের দুর্গাবাটি এলাকার ভাঙন কবলিত বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার ঢেকে দেয়া হয়েছে।

তবে, দাতিনাখালী, পশ্চিম কৈখালীসহ জেলেখালী, নেবুবুনিয়া ও গাবুরার অন্তত চারটি পয়েন্টের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে বাতাস বন্ধ থাকার পাশাপাশি নদীতে পানি বৃদ্ধির ঘটনায় তারা শংকিত। ঝড়ের সাথে একই সময়ে জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে ও ছাপিয়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশের আশংকায় স্থানীয়রা উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

পোড়াকাটলা গ্রামের প্রভাষক পরীক্ষীত মন্ডল জানান, তাদের বাড়ির সম্মুখভাগে দুর্গাবাটি এলাকার বাঁধ খুবই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক মাস আগে কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ সংস্কার সত্ত্বেও চর দেবে যেয়ে সম্প্রতি সেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে জোয়ারের সাথে যদি ঝড় মারাত্মক আকার ধারণ করে তবে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে।

নৈকাটি গ্রামের আনিছুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের এলাকার বাঁধ জীর্ণশীর্ণ সরু আইলের আকৃতি নিয়ে আছে। সম্প্রতি ভাঙন কবলিত অংশের পাশে কিছু বালুভর্তি জিও ব্যাগ দেয়া হলেও সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। হঠাৎ নি¤œচাপের কারণে তাদের এলাকার শতাধিক পরিবার ভাঙন আতংকে রয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, চারপাশে নদীবেষ্ঠিত গাবুরাকে ঘিরে থাকা বাঁধ আইলার পর থেকে বেশ নিচু হয়ে আছে। এছাড়া ইয়াস ও আম্পানের পর থেকে বড়গাবুরা, হরিশখালীসহ কয়েকটি অংশের বাঁধও বেশ ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অদ্যাবধি কাজ শুরু হয়নি। এমতাবস্থায় ইউনিয়নের ৪০ হাজারের বেশী মানুষ নিম্নচাপকে ঘিরে শংকিত হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মাসুদ রানা জানান, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোববার সকাল থেকে শ্যামনগরের ভাঙন কবলিত নেবুবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করেছেন। পাউবোর পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে জিও ব্যাগ স্থাপনসহ জিও শীট বিছানো এবং মাটি দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুল ইসলাম জানান, সাইক্লোন শেল্টার ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন