হোম অন্যান্যসারাদেশ অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গোল্ডেন এ+ পাওয়া সাজিয়া লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায়

অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গোল্ডেন এ+ পাওয়া সাজিয়া লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায়

কর্তৃক
০ মন্তব্য 174 ভিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি :
অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সাজিয়া সুলতানার (১৭) সাফল্যকে আটকে রাখতে পারেনি। সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। ছোটবেলা থেকে অসম্ভব মেধাবী তিন ফুট উচ্চতার সাজিয়া ভবিষ্যতে ডাক্তর হতে চায়। সে মোট ১১শ নম্বরের মধ্যে ১০৩৪ নম্বর পেয়েছে। সাজিয়া পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি এবং অষ্টম শ্রেণেিত জিপিএ ৫ পেয়েছিল। তবে অভাবের কারনে যদি ডাক্তারী পড়তে না পারে তবে সে বিসিএস দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদিতে চায়। আর তার ইচ্ছা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একবার দেখা করা।
সাজিয়ার মা শরীফা খাতুন জানান অদম্য প্রতিভার অধিকারী সাজিয়া জন্মগত ভাবে শারীরীক প্রতিবন্ধী হলেও জীবন যুদ্ধে সে অপ্রতিরোধ্য। সাজিয়া যখন খুব ছোট তার বাবা তার মা’ শরীফা খাতুনকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। এরপর থেকে তার মা’ই তার সব। তার নানা ও মামার আশ্রয়ে ১২ জন পরিবারে তার মা তাকে নিয়ে থাকেন। তার মা কোলে করে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয় আসা করতেন। এরইমধ্যে তিনি আনসার ভিডিপিতে নাম লেখান। ভোটের সময় ডিউটিতে তার যৎসামান্য আয় হয়। তার বাবাভাইয়ের সাহায্যে কোনরকম অভাব অনটনে দিন চলে।
পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়ার পর শত অভাব অনটনের মধ্যে বাড়ি থেকে বেশ কিছু দূরে আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করেন। এতদূর মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসার জন্য মা শরীফা খাতুন সাইকেল চালানো শেখেন। তিনি প্রতিদিন মেয়েকে সাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা করতেন।
মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর মত সংগতি ছিল না শরীফা খাতুনের। সাজিয়ার অসাধরণ মেধা দেখে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা এগিয়ে আসেন । তারা তাকে স্কুলের বিভিন্ন ব্যাচে নিয়ে বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়িয়েছেন। স্কুল কমিটির সভাপতি আাব্দুর রউফ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা ছাড়াও স্কুলের ইংলিশ শিক্ষিকা অর্চনা বালা রায় তার জন্যে বেশি যতœবান ছিলেন। স্কুলের সহযোগিতা পেলেও সরকারীভাবে এখনও পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পায়নি সাজিয়া। জন্মগতভাবে তার পা ব্যাকা হওয়ায় সে স্বাভাকি হাটা চলা করতে পারেনা। এসএসসি পরীক্ষার সময় তাকে কাপড়ে করে দোতালায় পরীক্ষার হল রুমে নিয়ে যাওয়া আস করা হত। মাস দেড়েক আগে একটি খৃষ্টান মিশনারির সহযোগিতায় খুলনায় তার দু’পায়ে অপারেশন করা হয়েছে। একনও তার পায়ের ব্যান্ডেজ খোলা হয়নি।
মা শরীফা খাতুন বলেন, সাজিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ঠিকই। আমরা এতে সবাই খুশি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মেয়েটি সংগ্রাম করে এতদূর এসেছে। তবে মেয়ের রেজাল্টে খুশি হলেও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই মা শরীফার। কারণ মেয়ের স্বপ্নপূরণ করতে হলে তাকে কলেজে ভর্তি করাতে হবে। কিন্তু সরকারী কলেজ অনেক দূরে। সাইকেলে করে এতদূর নিয়ে যাওয়া আসা একপ্রকার অসম্ভব। তারপরও মায়ের সাহায্য ছাড়া মেয়েটি একা হাটা, চলা ,গোসল কাপড়পড়া কিছুই করতে পারেনা । সে কারনে তাকে একা হোষ্টেলে রাখাও সম্ভব না। তাই কিভাবে মেয়েকে লেখাপড়া করাবেন এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মেয়ের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করবেন বলে জানান মা শরীফা খাতুন।
তবে তিনি তার মেয়ে সাজিয়ার স্বপ্ন পূরনের জন্য সমাজের বিত্তবানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন