হোম ফিচার নড়াইলে বছরের পর বছর পাশাপাশি চলছে নামাজ ও পূজা

মোস্তফা কামাল, নড়াইল :

একপাশে মসজিদে মুসলিম ধর্মবলম্বীরা নামাজ পড়ছেন, অপরপাশে মন্দিরে চলছে পূজা পাঠ। যারযার ধর্ম সেই সেই পালন করছেন। মানুষের সাম্প্রদায়ীক সম্প্রিতীর এটা একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা এলাকায় এক পাশে মসজিদ অপরপাশে মন্দির। মুসলিম ধর্মবলম্বীরা নামাজ পড়ছেন মসজিদে আর অপরপাশে চলছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সঠিকভাবে কেউ জানাতে না পারলেও প্রায় ৫ দশক আগে পুরাতন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস জামে মসজিদ নির্মান করা হয়। এর ১০ বছর পরে মহিষখোলা সর্ব্বজনীন পূজা মন্ডপটি তৈরী করা হয়। এখানে শারদীয় দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ এলাকার মানুষের মাঝে নেই কোন হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করছেন। ১ অক্টোবর শষ্টির মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব বয়সের লোকজন ধর্মীয় আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে। এ উৎসব চলছে ৫ অক্টোবর পর্যন্তু। এবছর জেলায় ৫৫৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মত এবারও শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মহিষখোলা সর্ব্বজনীন পূজা কমিটি সভাপতি সুমন দাস বলেন, আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে হিদিু-মুসলমাম একই পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকায় বসবাস করি। আমাদের এলাকায় কখনও ধর্ম নিয়ে কোনো বিরোধ বা বাড়াবাড়ি নেই। এই এলাকার মানুষ মনেপ্রানে অসাম্প্রদায়িক। প্রত্যকেই নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তিনি আরও বলেন, পূজা উদযাপনের সময় সরকারি ভাবে ৫শ কেজি চাউল পেয়ে থাকি। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সহযোগিতা করে থাকেন। তবে বেশিরভাগ খরজের ব্যবস্থা আমরা নিজেরাই করে থাকি।

নড়াইল পুরাতন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা এনামুল হক বলেন,আমরা মন্দির কমিটিকে নামাজের সময়সুচি দিয়েছি নামাজের সময় মন্দির কমিটি যেন তাদের কার্যক্রম শিতিল রাখেন। নামাজ শেষে স্বাভাবিক নিয়মেই পূজা-র্অচনার কাজ চলবে। আমাদের মাঝে এ নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব-সংঘাত নেই। বহু বছর থেকে আমরা সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে একই সমাজের শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছি।

নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন কমটিরি সভাপতি অশোক কুমার কুন্ডু বলেন, এ বছর জেলার তিনটি উপজেলায় ৫৫৮টি মন্ডপে র্দুগাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করছি প্রতি বছররে ন্যায় এ বছরও নড়াইলে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে।

পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন বলেন, নড়াইলে মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দূর্গাপূজাসহ সকল উৎসব উৎযাপনের ইতিহাস সুদীর্ঘ কালের । করোনার কারণে গত ২ বছর দূর্গাপূজা উৎযাপন সেইভাবে হয়নি তরে এইবারে জাকজমক পুর্ণ হবে বলে অনেকে আশা করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন