জাতীয় ডেস্ক :
যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা সরদার (৭২)। ২০১৯ সালে তার জমি সংক্রান্ত মামলায় ১৪৪ ধারা জারি করেন যশোরের নির্বাহী আদালত। বছরের পর বছর ঘুরেও মামলার কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না। সবশেষ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান যোগদানের পর মামলার দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটে।
সেবাগ্রহীতা মোস্তফা সরদার বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মাত্র তিনটি ধার্য তারিখে মামলার নিষ্পত্তি করে দেন তিনি (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট)। এতে আমি দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাই এবং এই বিচারকের কারণে এটা সম্ভব হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। সব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি তার মতো দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি দিতেন, তাহলে জনভোগান্তি অনেক কমে যেত।’
মোস্তফা সরদারের মতো যশোরের নির্বাহী আদালত থেকে দ্রুততম সময়ে মামলার রায় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫৮ জন বিচারপ্রত্যাশী।
নির্বাহী আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যশোরে যোগদান করেন কাজী সায়েমুজ্জামান। ওই সময় এ আদালতে ১ হাজার ৬২২টি মামলা বিচারাধীন ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬৫টি নতুন মামলা হয়েছে এই আদালতে। এসব মামলার ২ হাজার ১২টি নিষ্পত্তি করেছেন। এক মাসে সর্বাধিক ২০৫টি মামলার রায় দিয়েছেন। বর্তমানে এ আদালতে বিচারাধীন মামলা ১ হাজার ৯৭৫টি।
সেবাগ্রহীতারা জানান, চরম বিপদে পড়েই নির্বাহী আদালতের আশ্রয় নিতে হয়। বিশেষ করে আকস্মিক জমির অবৈধ দখল রোধে ১৪৪ ধারা জারির জন্য এ আদালতের কোনো বিকল্প নেই। এর আগে এ আদালতে একটি মামলা করে বিবদমান জমিতে স্থিতাদেশের ওপর রায় পেতে মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ঘুরতে হয়েছে। দেরির বিষয়ে আইনজীবীরা আদালতের বিভিন্ন কারণ তাদের কাছে উল্লেখ করতেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গেল ২ বছরে ১৪৪, ১৪৫, ৬২ ধারার মামলাগুলো প্রচুর পরিমাণে শুনানি হয়েছে। সেই সঙ্গে রায়ও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি মিলছে। ফলে আদেশ নিয়ে কোনো জটিলতা বা প্রতিপক্ষের ছল-চাতুরী করার সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
যশোরের নির্বাহী আদালতের গত ২ বছরে সর্বাধিক মামলা নিষ্পত্তির নজির গড়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তার আদালতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৯, ফেব্রুয়ারিতে ৬৩, মার্চে ১৪৮, এপ্রিলে ১১৭, মে-ত ১৬৬, জুনে ২০৫, জুলাইয়ে ১৩৯, আগস্টে ১১১ এবং সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘এখানে মামলা নিষ্পত্তির যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে। আমি শুনানি শেষে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই। যেন সেবাপ্রার্থীরা এ আদালতে হয়রানির শিকার না হন। আমি এসব বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম। এ কারণেই উদ্যোগ নিয়ে এত মামলা নিষ্পত্তি করেছি। আমার সময় যারা মামলা করেছেন, তারা বিচার পেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারার মামলাগুলো অনেক আগে নির্বাহী আদালতের আওতাধীন ছিল। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর সেগুলো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এখতিয়ারভুক্ত হয়। যে কারণে অনেক মামলা এখানে ঝুলে ছিল। সেই মামলাগুলো আমি হাইকোর্টের রায়ের বরাত দিয়ে নিষ্পত্তি করেছি।’
সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘মামলার দিন-তারিখের তথ্য জানার জন্য বিচারপ্রার্থীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হতো। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর আদালতের সম্মুখে এক মাসে কোন মামলার কোন তারিখে শুনানি হবে, তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করি। এতে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হয়েছেন। কোনো অজুহাতে কেউ যাতে বিচারপ্রার্থীদের ঘুরাতে না পারে, তার জন্য শুনানি ও রায় প্রদানের কাজ সহজ করেছি। আমার চেষ্টা থাকবে যাতে কোনো বিচারপ্রার্থী আমার আদালতে এসে হয়রানির শিকার না হন।’
