হোম জাতীয় ফেসবুকে ভাসছে এনার বিজ্ঞপ্তি, যা বলছে কর্তৃপক্ষ

জাতীয় ডেস্ক :

‘এনা বাসে কোনো যাত্রী ভিডিও ধারণ করতে পারবেন না এবং চালকের পাশে বসে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করা যাবে না’–এমন একটি বিজ্ঞপ্তি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন বিজ্ঞপ্তি, কেনই-বা যাত্রীরা বাসে ভিডিও করতে পারবে না?

মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি এবং দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে সমালোচিত পরিবহন কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনা ট্রান্সপোর্ট অন্যতম। যদিও সেই ধারা থেকে এখন বের হওয়ার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। তারই অংশ হিসেবে ‘এনা বাসে কোনো যাত্রী ভিডিও ধারণ করতে পারবেন না’–এমন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও পরিবহনটির মালিক ও বাস মালিকদের সংগঠনের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলছেন, এই বিজ্ঞপ্তি নতুন নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এটা প্রায় দেড় বছর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল। হঠাৎ এখন কেন এটা আবার সামনে এসেছে, তা তিনি জানেন না।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, যাত্রীবেশে কিছু লোক বাসে উঠে চালককে অতিরিক্ত গতিতে বাস চালাতে উৎসাহিত করছে। এতে চালক অতিরিক্ত গতিতে বাস চালাচ্ছে। যেখান থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই কোম্পানির সুনাম রক্ষার্থে এমন বিজ্ঞপ্তি দেয়া। কিন্তু কোনো যাত্রী যদি চালককে ভিডিওর মাধ্যমে প্রভাবিত না করে বা এতে চালকের মনোযোগ নষ্ট না হয়, তাহলে ভিডিও করতে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

এনা ট্রান্সপোর্টের জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশিত নোটিশে বলা হয়, ‘এতদ্বারা এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সব রুটের সুপারভাইজার ও ড্রাইভারদের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কিছু দুষ্কৃতকারী যাত্রীবেশে এনা বাসে ভ্রমণের নামে ড্রাইভারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে, রাস্তায় অন্য পরিবহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওভার স্পিডে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে এবং সেই সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রচার করে আসছে। তাই এনা ট্রান্সপোর্টের সুনাম রক্ষার্থে বাসে কোনো যাত্রী ভিডিও ধারণ করতে পারবেন না, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি ড্রাইভারের পেছনের সিটের যাত্রীরা যেন কোনোরকম ওভার স্পিডে গাড়ি চালাতে ড্রাইভারকে উৎসাহিত করতে না পারে, সেটা সুপারভাইজারকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, ঢাকা সিটির ভেতরে হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো যাবে না। হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর কারণে মামলা হলে কর্তৃপক্ষ দায়ভার বহন করবে না।

এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ আরও বলেন, ‘ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা খুলনা ও বৃহত্তর সিলেট রুটের বাসগুলোতে জিপিএস ট্র্যাকিং করিয়েছি। এখন গাড়ি কত কিলোমিটার গতিতে চলে সেটা আমরা অফিসে বসে দেখতে পারি। আগে এসি গাড়িতে এ ব্যবস্থা ছিল, এখন নন এসি বাসেও এই ব্যবস্থা নিয়ে এসেছি।’

আমাদের এই দলে এখন নয়জন কাজ করছে। আমাদের বাসের গতি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং অতিরিক্ত গতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গতি নিয়ন্ত্রিত করা হয়। জিপিএস ট্র্যাকারের পরে থেকে আমাদের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এটা অনেক বড় বিষয়।’

যদিও তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কম গতি রেখে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চাইলেও কিছু যাত্রী সবসময়ই চালকদের অতিরিক্ত গতিতে বাস চালাতে উৎসাহিত করছেন। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে আমরা এমন অভিযোগ শুনছি। এক্সপ্রেসওয়েতে অন্য বাসগুলো যখন এনার বাসকে ওভারটেক করে চলে যায়, তখন কিছু যাত্রী বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেন। তারা চালকদের বলতে থাকেন, গরুর গাড়ি চালাচ্ছে, আরও জোরে বাস চালাতে। তবুও আমাদের চালকরা মাথা ঠান্ডা রেখেই নির্দিষ্ট গতিতে বাস চালানোর চেষ্টা করেন।’

এ সময় তিনি যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ‘শুধু চালকদের দোষ দিয়ে সবসময় হয় না। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। সবার সমন্বিত চেষ্টায়ই মহাসড়ক নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।’

সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি দ্রুতগতির বাস সামনে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে যাত্রীবেশে থাকা বেশ কয়েকজন তরুণ বাসের চালককে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করছেন দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে পরিবহন সেক্টরে। এরপরই এনা ট্রান্সপোর্ট-এর ওই বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন