বাণিজ্য ডেস্ক :
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, গত বছর প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানি হয়েছে। ২০২৪ সালে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৬ সালে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের তৈরি পোশাক খাতে মোট রফতানির প্রায় ৮২ ভাগ অবদান রাখছে। পাশাপাশি আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাটসহ প্রায় ১০টি পণ্য রফতানি বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর রফতানি দিন দিন বাড়ছে।
শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ওভারসিস করেসপনডেন্ট অব বাংলাদেশ (ওকাব) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
টিপু মুনশি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তোরণ করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে তা কার্যকর হবে। এরপর আরও তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৯ সাল থেকে এলডিসিভুক্ত দেশের বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না বাংলাদেশের। তখন থেকে উন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই বিশ্ববাণিজ্য করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এরইমধ্যে রফতানি বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করেছি। আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ-এর মতো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির কারণে চীন এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ব্যবধান সবচেয়ে বেশি।
টিপু মুনশি বলেন, বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে ৯৯ ভাগ পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সেপা চুক্তি করার জন্য কাজ করছে। দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত রাখার জন্য রফতানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
মন্ত্রী বলেন, গত বছর প্রায় ৬০ বিলিয়ন রফতানি হয়েছে। ২০২৪ সালে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৬ সালে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের তৈরি পোশাক খাতে মোট রফতানির প্রায় ৮২ ভাগ অবদান রাখছে। পাশাপাশি আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাটসহ প্রায় ১০টি পণ্য রফতানি বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর রফতানি দিন দিন বাড়ছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক রফতানিতে আমাদের আরও সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমার বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী ছিল, তাদের তৈরি পোশাক খাত প্রায় বন্ধ। চীনের তৈরি পোশাক শিল্প স্থানান্তর ঘটছে। ফলে আমাদের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে। আমাদের দক্ষ জনশক্তি রয়েছে, উৎপাদন খরচ কম। তৈরি পোশাক শিল্পে গ্রিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। ফলে রফতানি বাণিজ্যে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সফল হয়েছে। ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়ক পথের ফ্রি ট্রানজিট সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে ভারত।
তিনি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে সড়ক-নৌ-আকাশপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশ অনেক লাভবান হবে। ভারত বাংলাদেশের তিনটি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করছে, আরও চাইলে বাংলাদেশ বিবেচনা করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।ওভারসিস করেসপনডেন্ট অফ বাংলাদেশের (ওকাব) আহ্বায়ক কাদির কল্লোল, সদস্য-সচিব নজরুল ইসলাম মিঠু এবং ওকাবের সিনিয়র সদস্য ফরিদ হোসেনসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
