হোম অন্যান্যসারাদেশ নড়াইলে স্বামীর গাজার প্যাকেট ধরে ফেলায় স্ত্রীকে স্বামী,শ্বাশুড়ী ও ননদের বেধড়ক মারধোর

নড়াইল অফিস :

নেশাখোর স্বামীর গাজার প্যাকেট ধরে ফেলায় স্ত্রীর মুখ থেতলে দিয়েছে যৌতুকলোভী স্বামী,শ্বাশুড়ী ও ননদ। ঘটনাটি নড়াইল সদরের পলইডাঙ্গা গ্রামে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মাথা,পায়ে ও মুখে মারাত্মক জখম নিয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে কাতরাচ্ছে গৃহবধূ সুমাইয়া ইসলাম(২০)। স্বামী আশিক খান পলাতক।

১৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্বামীর পকেটে গাজার প্যাকেট পাওয়ায় শ্বাশুড়ী শেফালী বেগম ও ননদ সামিরাকে জানালে বারা তাকে পেটায়। পরে স্বামী আশিক বাড়ি এলে আরেক দফা রড় দিয়ে মেরে তার মাথায় ও মুখে আঘাত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় শ্বশুর বাড়ি থেকে ভাইয়েরা উদ্ধার করে রাতে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আঘাতে তার মুখের কয়েকটি দাত নড়ে গেছে,ঠোটে অন্ততঃ ১০ টি সেলাই,মাথা ও পায়ে রড়ের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পারিবারিকভাবে জানা গেছে,একবছর আগে লোহাগড়ার শামুকখোলা গ্রামের সুমাইয়া ইসলাম এর সাথে বিয়ে হয় পলইডাঙ্গা গ্রামের আশিক খানের।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কাজী নজরুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় স্বামী আশিক খান শ্বশুরের পেনশনের টাকায় দামী মোটর সাইকেলের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এসময় সুমাইয়া জানতে পারে তার স্বামী নেশাগ্রস্ত। স্বামীর নেশার ঘটনা নিজ পরিবারের কাছে জানালে নানা অযুহাতে মারধোর করে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা।

সুমাইয়ার ভাই রমজান জানায়,আমার বোনের একবছর বিয়ে হয়েছে,এরমধ্যে ৯ মাসই নানা অযুহাতে আমার বোনকে তারা মেরেছে। এ ঘটনায় কয়েকদফা গ্রামের শালিশে মেটানো হয়।

নড়াইল সড়র হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা.পার্থ সারথি রায় বলেন, মেয়েটির মুখে ও ঠোটে মারাত্মক জখম আছে,মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ইন্টারনাল হেমারেজ আছে কি না সেটা জানার জন্য সিটিস্ক্যান সহ অন্যান্য পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে। স্বামী আশিক খান স্থানীয় চায়না ফার্মে দোভাষীর কাজ করে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে,তার মোবাইল(০১৯৪৮৯১৪৮০৬) যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন