হোম জাতীয় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ

জাতীয় ডেস্ক :

কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না গ্রামাঞ্চলের মানুষ। তাই বাধ্য হয়েই তাই ছুটছেন রাজধানীতে, বিশেষায়িত হাসপাতালে। আর সেখানেও সক্ষমতার তুলনায় বাড়তি চাপ। সে কারণে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয় ভোর থেকেই। আবার পরীক্ষার করাতেও লেগে যায় দিনের পর দিন। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢেলে সাজাতে হবে পুরো ব্যবস্থাপনা। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে পরিসর বাড়ছে তৃণমূল পর্যায়েও।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি এসব বোতল, ছাতা, ব্যাগ প্রতিনিধিত্ব করছে একেক জন রোগীর। টিকিট বিক্রি শুরুর কথা সকাল ৮টায়, কিন্তু ভোরের আলোর ফোটার আগেই হাসপাতালে ভিড় করে প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন গাজীপুরের মোমেনা খাতুন, খুলনার শিউলি আক্তার, কিংবা কুমিল্লার ওজিয়াউল্লার মতো দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা। আর এটিই যেন দেশের বিপুল সংখ্যক সেবাপ্রত্যাশীর বিপরীতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সীমাহীন সীমাবদ্ধতার প্রকৃত চিত্র।

ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারী বলেন, যাতে সিরিয়াল পাই সে জন্য ফজরের আজানের পর হাসপাতালে এসেছি।

অপর এক ব্যক্তি বলেন, ভোর ৫টায় আমি এসেছি। তার পরও ৩৫ নম্বর সিরিয়াল পেয়েছি।

নোয়াখালী থেকে সেবা নিতে আসা এক নারী বলেন, যদি নোয়াখালীতে এমন কোনো সেবা থাকতো, তবে তো আর কষ্ট করে এতদূর আসা লাগতো না।

মেডিকেল কলেজ, সাধারণ কিংবা বিশেষায়িত— রাজধানীতে সব ধরনের হাসপাতালের গল্পটা প্রায় একই। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের উচড়েপড়া ভিড় লেগেই থাকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে। চিকিৎসক দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা হাসপাতালে ভর্তি, সবক্ষেত্রে অপেক্ষার প্রহরে ম্লান হয়ে পড়ে মৌলিক সেবার নিশ্চয়তা।

চিকিৎসাপ্রার্থী এক বৃদ্ধ বলেন, সকাল ৮টায় আসছি, মাত্র টিকিট পেলাম। এখন ডাক্তার দেখাতে যাব।

অপর এক ব্যক্তি বলেন, টিকিট নিয়ে ডাক্তার দেখাতেই দিন শেষ। পরীক্ষা আবার কালকে। তারপর পরের দিন রির্পোট নিয়ে আবার ডাক্তার দেখানো। যার অর্থ হচ্ছে যারা চাকরি বা কাজ করে খান তারা এখানে ডাক্তার দেখাতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে আধুনিকায়ন হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি দেশের ৮ বিভাগে নির্মাণাধীন বিশেষায়িত হাসপাতাল ভূমিকা রাখবে স্বাস্থ্যসেবার দূরত্ব ঘোচাতে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীর বলেন, চারটি হাসপাতালেই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব হাসপাতাল চালু হলে পরিস্থিতির পরির্বতন হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব স্বাস্থ্যখাতের সীমাবদ্ধতা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর দেশে প্রায় ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো প্রান্তিক পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো থাকলেও, প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না শুধুমাত্র সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে। পাশাপাশি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ সার্বক্ষণিক চালু রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, শুধু সকাল ৮টা বা ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আউটডোর হবে না, হতে হবে সারাদিন। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অনেক বড় করে দাঁড় করাতে হবে। এটা শুধু বেড বাড়ানো নয়, বরং একটি উপজেলায় যত মানুষ আছে তাদের স্বাস্থ্য চাহিদার অন্তত ৮০ ভাগ যেন সেখানেই পূরণ হয়।

পাশাপাশি আনুপাতিক হারে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ানো ও দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন