হোম Uncategorized আম্পান দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি সংকট,স্বেচ্ছাসেবী এসএসটি’র উদ্যোগে পানি ও ত্রাণ বিতরণ

আম্পান দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি সংকট,স্বেচ্ছাসেবী এসএসটি’র উদ্যোগে পানি ও ত্রাণ বিতরণ

কর্তৃক
০ মন্তব্য 124 ভিউজ

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
সুপার সাইক্লোন আম্পান প্রভাবিত ও দুর্গত এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে।সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দূর্গাবাটী এবং দাতিনাখালীতে ভয়াবহ বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ইউনিয়নের আংশিক এলাকা পূর্ব দূর্গাবাটী বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে দূর্গাবাটী,পোড়াকাটলা,ভামিয়া গ্রাম এবং দাতিনাখালী বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে দাতিনাখালী,নীলডুমুর,কলবাড়ি গ্রাম লোনা পানিতে প্লাবিত হয়।পুরো এলাকা লোনা পানির কারণে বসতবাড়ি,চিংড়ীঘের,কাঁকড়ার পয়েন্ট,ফসলী জমিসহ এলাকার সকল সুপেয় পানির পুকুর নষ্ট হয়েছে।এজন্য উপরোল্লিখিত সকল গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।তাদের একমাত্র সুপেয় পানির উৎস কিছু পুকুর,আর বৃষ্টির পানি।এজন্য সকল জনসাধারণের সুপেয় পানির চাহিদা বেড়ে গেছে।ইতিমধ্যে সুপেয় পানির অভাবে পচা,নোংরা পানির কারণে পানি বাহিত রোগের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।আম্পানের সাথে সাথে স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিনামূল্যে পানি সরবরাহ ও বিতরণ করে আসছে।এছাড়া কিছু সংগঠন ও সংস্থার উদ্যোগেও পানি বিতরণ করেছে আম্পান প্রভাবিত এলাকায়।এ উদ্যোগগুলো ছিল সীমিত পরিসরে,অল্প কিছুদিন বিতরণ করে তারা আর পানি সরবরাহ করছে না।তবে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষের জন্য পানি সরবরাহ করছে।প্রতিদিনের মত আজ বুধবার পূর্ব দূর্গাবাটী বেড়ীবাঁধ এলাকায় দীপায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে দূর্গাবাটী,পোড়াকাটলার অপেক্ষারত হাজার হাজার মানুষের জন্য সুপেয় পানি বিতরণ করে সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম।বিদ্যুৎ লাইন না থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট থেকে কয়েক হাজার লিটার পানি সরবরাহ ও বিতরণ করেছে।অনেকেই পানির সুবিধা পেলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে কিছু মানুষ ফিরে যাচ্ছে।ফিরে যাওয়া মানুষের আগামী দিনে আবার পানি বিতরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এভাবে পানি ও ত্রাণ বিতরণ ও সরবরাহ করছে শ্যামনগরের সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম।এসএসটি’র উদ্যোগে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে সুষ্ঠু,শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুপেয় পানি বিতরণের কার্যক্রম সত্যিই চোখে পড়ার মত ও প্রশংসনীয়।সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সভাপতি মারুফ হাসান মিলনের সার্বিক নির্দেশনায় মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের এসএসটি’র প্রকাশ মন্ডল,আলী হোসেন,তাপস সরকার,বিবেক সরকার,রতন সরকার,বিশ্বজিত মন্ডলসহ আরও অনেকেই প্রতিদিন সুপেয় পানি সরবরাহ ও বিতরণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করছে।সুপেয় পানি বিতরণের এই মহতী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করতে স্থানীয় মধুসূদন মণ্ডলসহ অনেকেই সার্বিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সামাজিক,রাজনৈতিক ও চাকুরীজীবী ব্যক্তিবর্গ এসব সংগঠনের কার্যক্রমকে সহযোগিতা করছেন।এসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পাশাপাশি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটী বেড়ীবাঁধ,গাবুরা লেবুবুনিয়া বেড়ীবাঁধ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।এছাড়াও খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নে ৩৬০টি আদিবাসী পরিবারে প্রায় ৩৫০০ (তিন হাজার পাঁচ শত) জনগোষ্ঠী বসবাস করে যেমন,৫নং কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি ওয়ার্ডে বাস করে তার মধ্যে মাজেরাইট,নলপাড়া ও ৬ নং উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদে ৬টি ওয়ার্ড হতে ৩টি ওয়ার্ড যেমন ২ নং ওয়ার্ড সম্পূর্ণ,৩ নং ওয়ার্ড কাছারীবাড়ি দীঘিরপাড়,৪নং ওয়ার্ড বড়বাড়ি আদিবাসী মুন্ডাপাড়া,সহ মোট ৫টি ওয়ার্ডে ১৬০ টি আদিবাসী মুন্ডা পরিবার,দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বীনাপানি,পদ্মপুকুর,ঘড়িলাল,জোড়সিংসহ অন্যান্য এলাকার জনগোষ্ঠী এখনো আম্পানের লোনা পানিতে প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে,গৃহ-পালিত পশু-পাখি মারা গেছে ও কৃষি খাত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং তীব্র সুপেয় পানি,খাদ্য ও স্যানিটারি সংকট দেখা দিয়েছে।অবিলম্বে এসকল এলাকাসমূহে জরুরী ত্রাণ,খাদ্য সহায়তা,চিকিৎসা সহায়তাসহ পানীয় সংকট মোকাবেলা করা উচিত।সরকারী উদ্যোগ ও কর্মসূচীর পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন,সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন আম্পান প্রভাবিত এলাকার অসহায় মানুষজন।এসমস্ত এলাকায় এসএসটিও অন্যান্য সংগঠন ও সংস্থা ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।আম্পান দুর্গত এলাকার সাধারণ জনগণ এই মহতী কার্যক্রমকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।সেইসাথে আরও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংস্থাকে এগিয়ে আসার জন্য অনূর্ধ্ব জানিয়েছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন