আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘মুইফা’। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে উপকূলের একাধিক শহরে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। স্কুল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি দেয়া হয়েছে আরও বেশ কিছু নির্দেশনা।
চলতি সপ্তাহে পূর্ব চীন সাগরে ঘূর্ণিঝড় মুইফার উৎপত্তি। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করে এটি। এটি এখন চীনের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বন্দরনগরী নিংবো ও ঝুশানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঝুশান ও ওয়েনলিং শহরের মাঝ বরাবর এলাকায় যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে।
দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এটা চলতি বছরের ১২তম ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আঘাত হানার পর ঝুশান শহরেরর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৯৩ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় এরই মধ্যে সাত শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও স্থগিত করা হয়েছে সাড়ে তিনশ’র বেশি ট্রেন। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
সিএনএন জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝেজিয়াং কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজগুলোকে বন্দরে নোঙর করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি স্কুল বন্ধ ও পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এর প্রভাবে পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূল অঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক শিপিং ইনস্টিটিউট বলেছে, সাংহাইয়ের পাশে চীনের সবচেয়ে ব্যস্ততম কনটেইনার সমুদ্রবন্দরে ৫ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
এজন্য সাংহাই ইয়াংশান টার্মিনালসহ অন্যান্য বন্দরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কিছু কার্যক্রম বাতিল ও বুধবার সকাল থেকে পুরোপুরি সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাংহাই বিমানবন্দরে ২৫ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বুধবার ১১টি ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঝুশানের পাশে পর্যটন এলাকা ও উপদ্বীপ থেকে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার পর্যটককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া সাত হাজার ৪০০ জাহাজ বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের মধ্যে ঝুশান, নিংবো, তাইজৌ ও ঝেজিয়াং বন্দরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
