জাতীয় ডেস্ক :
উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতি সেতু। সেতুটি ইতোমধ্যে কালনা সেতু নামে পরিচিতি পেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির নামকরণ করেছেন নদীর নামে, মধুমতি সেতু। সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি, হয়েছে গাড়ি চলাচলের উপযোগী। এমনকি সেতুর টোল হারও ইতোমধ্যে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে এ সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সহজে রাজধানীর সংযোগ ঘটবে।
সেতুটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেতুটির টোলের হার চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি আমরা এটি হাতে পেয়েছি। সেতুতে গাড়ি চলাচলের উপযোগী হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজও শেষ। ল্যাম্পপোস্ট ও টোল প্লাজার কাজ চলছে। টোল প্লাজার কাজ এ মাসের মধ্যে শেষ হবে। ল্যাম্পপোস্ট চীনে তৈরি হয়েছে, তা চট্টগ্রাম নৌবন্দরে পৌঁছেছে। সেতুতে বসাতে এক সপ্তাহ লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলেই উদ্বোধন হবে এ সেতু। অক্টোবরের যেকোনো দিন উদ্বোধন হতে পারে।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কন্টেইনার বা ভারী মালামাল পরিবহনে সক্ষম যানের টোল ধরা হয়েছে ৫৬৫ টাকা, বড় ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ৪৫০ টাকা, মধ্যম ট্রাক ২২৫ টাকা, বড় বাস ২০৫ টাকা, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস বা পিকআপ ৯০ টাকা, সিডান কার ৫৫ টাকা, টেম্পো বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং ভ্যান, রিকশা বা বাইসাইকেল ৫ টাকা।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কালনা পয়েন্টে মধুমতী নদীর ওপর এ সেতুর অবস্থান। সেতুর পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া। দৃষ্টিনন্দন এ সেতু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। এটি এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রবেশদ্বার হবে এ সেতু।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এ সেতুর ঠিকাদার।
এ সেতুর চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা।
এদিকে গত ৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত (বিএস আর এফ) সংলাপে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মধুমতি সেতু উদ্বোধন হবে অক্টোবরে। মধুমতি সেতু নামে নামকরণ হবে এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। সেপ্টেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হবে।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কালনাঘাট থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। ফলে ঢাকার সঙ্গে নড়াইল, বেনাপোল, যশোর, খুলনাসহ আশপাশের সড়ক যোগাযোগ কোথাও ১০০ কিলোমিটার, কোথাও আবার ২০০ কিলোমিটার কমে যাবে। তবে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ নির্মাণ করা হলেও ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এ ধরনের সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’র সুফল পাচ্ছে না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ। ভাঙ্গা থেকে নড়াইল-যশোর-বেনাপোল পর্যন্ত বর্তমানে দুই লেন সড়ক চালু আছে।
এই অংশে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পাধীন বলে জানিয়েছেন সেতুটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, কালনা সেতু চালু হলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। তাই আপাতত যশোরের মনিহার সিনেমা হল চত্বর থেকে নড়াইলের কালনাঘাট পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৪ ফুট করা হবে।
