বাণিজ্য ডেস্ক :
হুহু করে সাবান ও ডিটারজেন্টের দাম বাড়ছে। তবে কারণ জানেন না ক্রেতা ও বিক্রেতারা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, উৎপাদন খরচের তুলনায় ভোক্তার মুখের দিকে তাকিয়ে দাম সহনীয় রাখা হয়েছে। এদিকে, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দাবি, প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়াতে প্রতিনিয়ত চালাকি করছে। তাই কারখানা পরিদর্শন করে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা বের করার আশ্বাস দিয়েছে ভোক্তা অধিকার।
নিত্যপণ্যের বাজারে গেলে দেখা যায়, প্রায় সব পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। দাম বাড়ার দৌড়ে কোনোটিই পিছিয়ে নেই। চাল, ডাল, তেলের দাম তো বাড়ছেই, সেই সঙ্গে বাড়তি নিত্যপ্রয়োজনীয় সাবান, ডিটারজেন্টের দামও। কিন্তু কেন বাড়ছে এ প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম? জবাব নেই খোদ বিক্রেতাদের কাছে। অপরদিকে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা।
এ বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পেস্ট, সাবানসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। গায়ে যে দাম রয়েছে তারা সে দামেই বিক্রি করছেন। তাদের কিছুই করার নেই।
এ প্রশ্নের উত্তর জানতে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
তবে চতুরতার সঙ্গেই প্রতিনিধিরা জানান, কোনো পণ্যেরই দাম বাড়াতে চান না তারা। এ বিষয়ে এসিআইয়ের প্রতিনিধি বলেন, ‘শুরুতে আমাদের কাঁচামালের দাম বাড়ায় আমরা আমাদের মুনাফা কমিয়ে দিয়ে আগের দামেই বিক্রি করছি। কিন্তু দাম আরও বাড়ায় আমাদের ম্যানেজমেন্টকে খুব সতর্কতার সঙ্গে দাম নির্ধারণ করতে হয়। যেন বাজারে কোনোরূপ অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।’
তাহলে কেন ভোক্তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে? কোম্পানিগুলোর অজুহাত, ২০২০ সালের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত কাঁচামালের দামসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে এর অর্ধেক।
ইউনিলিভারের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা যদি আরও দাম বাড়াতাম, আমাদের খরচটা বাজার থেকেই তুলে নিতাম, তাহলে দাম অনেক বেশি বাড়ানো লাগত। এতে ভোক্তা পর্যায়ে আরও প্রভাব পড়ত। সেটা কিন্তু আমরা করছি না।’
তারা জানান, পণ্যের দাম বাড়লে ভোক্তা হারানোর আশঙ্কা থাকে, তাই লোকসান দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে স্কয়ারের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের কিন্তু স্থায়ী ভোক্তা রয়েছে। তারা যদি দাম বেশির কারণে ক্ষুব্ধ হন, তাহলে তারা অন্য পণ্যের দিকে ধাবিত হবেন। কারণ, বাংলাদেশে সাবান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অনেক রয়েছে।’
এখানেই ভিন্ন পর্যবেক্ষণ ক্যাবের। যেসব পণ্যে একক আধিপত্য রয়েছে, বাজারে ভোক্তাদের জিম্মি করা সেসব পণ্যের দাম বাড়াতে কোম্পানি একদমই ভাবে না।
ক্যাবের দাবি, যে পণ্যগুলোর দাম বাড়লে অন্যরা মার্কেট শেয়ার নিয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে কিন্তু সচেতনভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কিন্তু যে জায়গায় মার্কেট শেয়ার ফিক্সড, সেখানে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
এ সময় শিগগিরই পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
