জাতীয় ডেস্ক :
সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় ১৫৩ কিউসেক পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেছেন, চুক্তিটিতে বণ্টন শব্দটি ব্যবহারে ঘোর বিরোধী আমি। এখানে কে কাকে বণ্টন করছে- এটি বোঝা উচিত আমাদের।
আইনুন নিশাত বলেন, সুরমা-কুশিয়ারায় পানি আছে ২ হাজার কিউসেকের ওপরে। বরাকে পানি আছে ৪-৫ হাজার কিউসেকের ওপরে। বণ্টন শব্দটির কথা বললে অর্ধেক পানি পাওয়ার কথা আমাদের। সেটাতো হচ্ছে না। এখানে বণ্টন কথাটি ব্যবহার করার কোনো মানে হয় না।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সই হওয়া ৭টি সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
সমঝোতা স্মারকের প্রথমটিই হচ্ছে রহিমপুর হয়ে বাংলাদেশের সিলেটে কুশিয়ারা নদী থেকে সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় ১৫৩ কিউসেক পানি বণ্টনে সমঝোতা। চুক্তিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং ভারতের পক্ষে জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব পঙ্কজ কুমার।
এ চুক্তি সম্পর্কে অভিমত জানতে চাইলে আইনুন নিশাত সময় সংবাদকে বলেন, আগে আমাদের জানা দরকার কীভাবে পানি বণ্টন করা হচ্ছে, কারা কোন পদ্ধতিতে বণ্টন করছেন। বরাক নদী দুভাগ হয়ে নাম হয়েছে সুরমা-কুশিয়ারা। এ দুটি নদী আবার ভৈরবের কাছে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে প্রবাহিত হয়। প্রাকৃতিকভাবে সুরমা ও কুশিয়ারা যখন ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে সেখানে ২০-২৫ কিলোমিটার এটি একটি অভিন্ন নদী। অর্থাৎ একপাশে ভারত, অন্যপাশে বাংলাদেশ। এখান থেকে ৫ কিলোমিটার ভেতরে রহিমপুর নামে একটি জায়গা আছে, যেখানে বাংলাদেশ ঠিক করল একটি পাম্প স্টেশন বসাবে- যার মাধ্যমে সেচের জন্য ১৮২ কিউসেক পানি ব্যবহার হবে। পানি নেয়ার জন্য বাংলাদেশ যখন খাল কাটতে গেছে, তখন ভারত বাধা দিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা গুলি পর্যন্ত চালিয়েছে। এখন আবার তারাই বলছে, তোমরা পানি নাও আমরা আপত্তি করবা না। এটা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমি ভারতকে বিশ্বাস করি না।
তিনি বলেন, সুরমা-কুশিয়ারার দু’প্রান্তে নদী ভাঙছে। এখানে বণ্টনের থেকেও যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের উচিত ব্যবস্থাপনায় জোর দেয়া। এছাড়া ভারত না হয় আমাদের পানি দিচ্ছে, বিনিময়ে ভারত কী নিচ্ছে এটাও আমাদের জানা উচিত।
এবারের ভারত সফরে তিস্তা পানিচুক্তি বরাবরের মতোই আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তিস্তা নিয়ে একটা সমঝোতাপূর্ণ সুফল আসতে পারে।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ভারত। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। দুই দেশ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনায় অনেক অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করেছে। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইসহ সব অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
