আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে যে সব অস্ত্র বিক্রি করছে তার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ‘এক চীন নীতির’ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের অস্ত্র বিক্রির নতুন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) এ মন্তব্য করেছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রকে জরুরিভাবে বাতিল করতে হবে।
তাইওয়ানকে দিতে যাওয়া ১১০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান থেকে অন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতাসম্পন্ন ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র। এরপর চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এই বিবৃতি দিলেন।
লিউ পেংইউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জরুরিভিত্তিতে এ অস্ত্র চুক্তি বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি এমন সব কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে যার কারণে তাইওয়ান প্রণালীর আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়।
একই বিবৃতিতে চীনা মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যাই করুক চীন তার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তাইওয়ান প্রণালীতে ব্যাপক সামরিক মহড়া শুরু করে বেইজিং। এখনও সেই মহড়া চলছে।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে চীন। কিন্তু তাইওয়ানের এতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাইওয়ানের নাগরিকরা নিজেদের স্বাধীন বলে মনে করেন।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, দ্বীপটিকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর খুব কাছ থেকে বারবার চীনা ড্রোন উড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে তাইপে। সোমবার তাইওয়ানের সে অভিযোগ নাকচ করে দেয় চীন।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং মার্কিন আইনপ্রণেতারা ক্রমাগত তাইওয়ান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জোরালো করেছে।
গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আরও বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
তাইওয়ানকে দিতে যাওয়া ১১০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান থেকে অন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতাসম্পন্ন ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র।
