হোম জাতীয় টাঙ্গাইলে সেই রিসোর্টের গেট অপসারণে আল্টিমেটাম

জাতীয় ডেস্ক :

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মার্থা লিন্ডস্ট্রম-নুরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের গেট অপসারণের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে এ সময় বেঁধে দেয়া হয়।

এর আগে টাঙ্গাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের ভেতরেই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে সময় টেলিভিশনে একটি সংবাদ প্রচার হয়। এর পরেই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে স্কুলের গেট সরানোর মৌখিক নির্দেশনা দিলেও কর্তৃপক্ষ স্কুলের গেট আলাদা করেনি।

সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার বাসাইলের দাপনাজোর গ্রামে মার্থা লিন্ডস্ট্রম-নুরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। এ সময় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। তদন্ত কমিটি এ সময় স্কুলের আঙিনা ও রিসোর্টের জায়গা ঘুরে দেখেন। পরে তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনজর গ্রামে ১৯৯২ সালে নরওয়ের নাগরিক কার্ল ফ্রেডরিক লিন্ডস্ট্রম ও তার বাংলাদেশি বন্ধু দাপনাজোর গ্রামের স্থপতি আখতার হামিদ মাসুদ তাদের দুজনের মায়ের নামে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তারা এ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন ‘মার্থা লিন্ডস্ট্রম-নুরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’।

এর আগে বাংলাদেশে নরওয়ে দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তা ও নরওয়ের নাগরিক কার্ল ফ্রেডরিক লিন্ডস্ট্রম তার বন্ধু আখতার হামিদ মাসুদের আমন্ত্রণে দাপনাজের গ্রামে বেড়াতে আসেন। দীর্ঘদিন যাতায়াতের এক পর্যায়ে দাপনজর গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ থেকে তিনি তার মা ও বন্ধুর মায়ের নামে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের জমিদাতা আখতার হামিদ মাসুদ ও ব্যবসায়ী নেতা আবুল কালাম মোস্তফা লাবু। এ ছাড়াও সে সময়ে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ান টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট কবি ও লেখক এবং কলেজ শিক্ষক মাহমুদ কামালসহ স্থানীয় অনেকে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি। ১৯৯৩ সালের ৯ এপ্রিল খুবই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্কুলের উদ্বোধন করা হয়। বেশ ভালই ছিলে স্কুলের পাঠদান। শিক্ষার্থীও ছিল অনেক।

গত প্রায় ১০ বছর আগে দাপনজর গ্রামের ড. আহসান মনসুর স্কুলের জায়গা ও আশপাশের কৃষি জমি নিয়ে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার নামের একটি রিসোর্টের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালের শেষের দিকে রিসোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

রিসোর্টের নির্মাণ কাজ চলাকালীন এলাকাবাসীদের বলা হয়েছে, এখানে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। রিসোর্টের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর দূর দূরান্তের নানা বয়সী নারী-পুরুষের আগমনে এলাকাবাসী জানতে পারে এখানে রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার করা হয়েছে। একই গেট ব্যবহার করে ওইসব নারী-পুরুষ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারে যাচ্ছে। আবার উঠতি বয়সী তরুণীরা স্কুলে যাচ্ছে। বিষয়টি সময় টিভির নজরে আসার পর বেশ কিছুদিন আগে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অবশেষে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি পাঠিয়ে সংবাদের সত্যতা প্রমাণের পর ১৫ দিনের মধ্যে স্কুলের গেট পৃথকসহ ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র দেখানের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের মালিকপক্ষ আমাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার ছাড়পত্র গ্রহণ করেনি। তারা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই রিসোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, একই গেট ব্যবহার করে রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারে যাওয়া এবং বালিকা বিদ্যালয়ে তরুণীদের স্কুলে যাওয়া অবশ্যই দৃষ্টি কটু। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আলাদা আলাদা গেট নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার গড়ে তুলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের জন্য বৈধ কাগজ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন