হোম জাতীয় ভারতের মতো আমাদেরও রেলপথ ব্রডগেজ হবে: সুজন

জাতীয় ডেস্ক :

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে ২০১১ সালে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেন।

দেশের প্রতিটি জেলায় রেলপথ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। রেলের উন্নয়নে অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলোর কাজ চলমান। ভারতের সব রেললাইন ব্রডগেজে, আমাদের দেশেও গেজ ব্যবস্থাকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং খুলনা-দর্শনা সেকশনে ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের রেল ব্যবস্থা ব্রডগেজ এবং মিটারগেজের মাধ্যমে দুই অঞ্চলে বিভক্ত। আমরা পর্যায়ক্রমে সব রেল ব্যবস্থাকে ব্রডগেজে রূপান্তর করছি। ভারতের সব রেললাইন ব্রডগেজে, আমরাও দেশের গেজ ব্যবস্থাকে একরকম ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ করছি। এ ছাড়া রেললাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, সব কটিই ব্রডগেজ আকারে করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নির্মিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। এ ছাড়া ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইনের প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি।’

মন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে ৮টি ইন্টার সেকশন বন্ধ হয়েছিল, ইতোমধ্যে ৫টি চালু হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হবে। ভারতীয় অর্থায়নে এ প্রকল্প দুটি নির্মিত হবে।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক উল্লেখ করে এ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেকশন দুটি নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘পার্বতীপুর-কাউনিয়া ডুয়েল গেজ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে আমরা ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটানের সঙ্গে কানেকটিভ বাড়াতে সক্ষম হব এবং এর ফলে আমাদের যাত্রীসহ মালামাল পরিবহনের সুযোগ বাড়বে।’

খুলনা-দর্শনা সেকশনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী এবং কনসালট্যান্ট সার্ভিস ভারতীয় স্টুপ কনসালট্যান্ট ও আরভি অ্যাসোসিয়েটস জয়েন্ট ভেঞ্চারের পক্ষে মো. আসাদ।

এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা-দর্শনার মধ্যে পুরোনো লাইনের পাশাপাশি নতুন ১২৬ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মিত হবে। কনসালটেন্সি সার্ভিসের চুক্তিমূল্য ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬৯৯ টাকা। অন্য একটি প্রকল্প পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর প্রকল্পের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত শরীফ খান এবং ভারতীয় কনসালটেন্সি সার্ভিস আরভি অ্যাসোসিয়েট এবং স্টুপ কনসালট্যান্টস লিমিটেড জয়েন্ট ভেঞ্চারের পক্ষে অভিক ভট্টাচার্য।

কনসালটেন্সি সার্ভিসের চুক্তিমূল্য ৭৫ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ টাকা। এ প্রকল্পে ৫৭ কিলোমিটার মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। উভয় প্রকল্পই ভারতীয় এলওসির অর্থায়নে হবে।

এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব সালোনি সাহাইসহ মন্ত্রণালয়, রেল‌ওয়ে, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক প্রতিনিধি এবং কনসালট্যান্ট সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন