হোম জাতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখালেন রানা দাশগুপ্ত

জাতীয় ডেস্ক :

চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে কালো পতাকা দেখিয়েছে রানা দাশ গুপ্তের নেতৃত্বাধীন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার( ১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। এর প্রায় ১শ গজ দূরে চেরাগী পাহাড়ে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্তের নেতৃত্বে অংশ নেন কয়েকশ নারী-পুরুষ।

পরে তারা মিছিল নিয়ে জেএমসেন হলের দিকে যেতে চাইলে বাঁধা দেয় পুলিশ। তবে বাঁধা উপেক্ষা করেই আন্দরকিল্লার মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করেন তারা। বাংলাদেশের কোন মন্দিরে হামলা কিংবা ভাঙচুর হয়নি সম্প্রতি ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্য দেন। এরই প্রতিবাদেই মন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখায় হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

এ সময় রানা দাশগুপ্ত বলেন, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমরা অংশীদার। আমরা চাই এই জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সকল আয়োজন সার্থক ও সফল হোক। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি, যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন তিনি বারংবার দেশের বাইরে এই মর্মে প্রচার করেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় বা হিন্দু জনগণ যে ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করে সেইগুলো মিথ্যা। তিনি বারংবার বলেছেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন হয় নাই। তিনি আরো বলেছেন এদেশের সংবাদ মাধ্যম ও সংখ্যালঘুরা নির্যাতন নিয়ে মিথ্যাচার করে। আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অপপ্রচার ও মিথ্যার অতীতেও ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়েছি, এখনো জানাচ্ছি। গতকাল হঠাৎ করে আমরা জানতে পারলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন, তখন চট্টগ্রামের ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিলেন।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ কোনোভাবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর মেনে নিতে পারছে না। এই আগমনের বিরুদ্ধে যেই প্রতিবাদ সেই প্রতিবাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ সংখ্যালঘু জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদ। আজকে এই অবস্থান থেকে কালো পতাকা মিছিল সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে একটি ম্যাসেজ যাবে সেটি হচ্ছে ভবিষ্যতে জাতিগত সংখ্যালঘু বিরোধী কাউকে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাবেন না। যদি আমন্ত্রণ জানান তবে সাধারণ মানুষ এভাবে রাস্তায় নামবে। সাধারণ মানুষ এভাবে রাজপথে ধিক্কার জানাবে এবং মিছিল হবে। আমরা মনে করি এখনো সময় আছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুক। না হয় জাতিগত সংখ্যালঘুরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে এবং প্রতিরোধ করবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন