জাতীয় ডেস্ক :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেয়া সেই নবজাতককে ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাইক্রোবাসে করে শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়া হয়। ময়মনসিংহ সরকারি বালিকা এতিমখানার কর্মচারী তাহমিনা আক্তার স্বপ্না শিশুটিকে কোলে নিয়ে যান রাজধানীর ছোটমণি নিবাস পর্যন্ত। এসময় সঙ্গে ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, সমাজকর্মী আবদুল্লাহ সুমন ছাড়াও পুলিশের একটি দল। ছোট বোনকে রেখে আসতে সঙ্গে যায় ৯ বছরের বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌসও।
দুপুর আড়াইটার দিকে শিশুটি নিয়ে তারা পৌঁছান ছোটমণি নিবাসে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকার আজিমপুর ছোটমণি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জুবলী বেগম রানুর কাছে হস্তান্তর করা হয় তাকে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় বোর্ড সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে শিশুটির নাম রাখা হয় ফাতেমা।
এছাড়া সভায় নবজাতকটিকে লালন-পালনের জন্য সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত ঢাকার আজিমপুরের শিশু নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেয়া হয়।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহসহ নবজাতকের পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬ জুলাই বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় ট্রাকচাপায় মারা যান উপজেলার রায়মনি এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৪২), তার স্ত্রী রত্না বেগম (৩২) ও তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা আক্তার। দ্রুতগতির একটি ট্রাক বেলা সোয়া ৩টার দিকে ওই দম্পতিসহ তাদের কন্যাশিশুকে চাপা দেয়। এতে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেট ফেটে বেরিয়ে আসে গর্ভে থাকা শিশু।
স্থানীয়রা নিহত দম্পতির আহত সন্তান সানজিদা ও সদ্যোজাত মেয়েকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার আগেই সানজিদার মৃত্যু হয়। সদ্যোজাত শিশুটির ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে গেলেও সে বেঁচে যায়।
জানা যায়, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর রুটিন চেকআপ করাতে বাড়ি থেকে ত্রিশাল এসেছিলেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়।
ঘটনার দিন রাতেই রায়মনি এলাকায় তাদের তিনজনকে দাফন করা হয়। এই এলাকাটি রত্নার শ্বশুরবাড়ি।
