বাণিজ্য ডেস্ক :
মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ। শুধু ভোজ্যতেল ছাড়া বাজারে সুখবর নেই খাদ্যতালিকার কোনো পণ্যের। নতুন করে চালের দামে যোগ হয়েছে বাড়তি এক থেকে দুই টাকা। সংসারে ব্যয়ের হিসেবে কুলিয়ে উঠতে না পেরে নিম্ন আয়ের মানুষের হাত দিতে হচ্ছে সঞ্চয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি মূল্যস্ফীতির হিসাবের চেয়ে বাস্তবে ভোগ্যপণ্যের দাম অনেক বেশি।
গেল সপ্তাহে সবশেষ পরিসংখ্যান বলছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। কিন্তু সরেজমিনে বাজারে মিলছে ভিন্ন চিত্র। সপ্তাহ দু এক আগেও যে মাছ বিক্রি হত ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, সেটি এখন ঠেকেছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। কিন্তু ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এর দাম হতে পারত ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।
গড় হিসেবের এ তথ্যের বাস্তবতায় বাজারে গিয়ে শুধু স্বস্তির খবর মিলছে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে। তাও আবার নতুন দামে পণ্য কিনতে না পারার অজুহাতে বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে। এদিকে চালের দাম ১/২ টাকা বেড়েছে।
একই বাজারে থাকেন ভিন্ন ভিন্ন ক্রেতা। মাছ ব্যবসায়ীকে যেমন মুদি পণ্য কিনতে হয় আবার মুদি দোকানদারকেও কিনতে হয় মাছ। স্বস্তিতে নেই কেউই। আবার সাধারণ ক্রেতাদের একটা শ্রেণির নাভিশ্বাস উঠলেও আর একশ্রেণির খুব একটা ভ্রূক্ষেপ নেই উচ্চমূল্যে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস একজন ক্রেতা বলেন, এখন আধা কেজি মাছ নিলাম ১৩০ টাকায়, আগে এ পরিমাণ মাছ ১০০ টাকায় পেতাম। কোনো জিনিসেরই দাম কমছে না। আমরা দেখছি তো না। সব জিনিসেরই দাম বেশি।
আরেকজন ক্রেতা জানান, ১ মাস আগেও যে মাছ ১৬০ টাকা দিয়ে কিনেছি, সেটি এখন ২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তারা যদি ২/৪ টাকা বেশিও রাখেন, কমপক্ষে ভালো মানের পণ্য দিতে হবে, তাও তো দিচ্ছে না।
এদিকে বাজারে নতুন মূল্যের তেল না ঢুকার কথা জানিয়ে একজন বিক্রেতা বলেন, আমরা এখনও ঈদের আগের তেলই বিক্রি করছি। ঈদের পরে কমে যাওয়া মূল্যের তেল বাজারে ঢোকেনি।
অর্থনীতিতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তব চিত্র গড় হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে চাপে পড়ে আয় বৈষম্য স্পষ্ট হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবীর বলেন, পণ্যগুলোর দাম কিন্তু অনেক বেড়ে গেছে। যার পরিমাণ ২০ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এবং কিছু কিছু পণ্যের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে, যেগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যেমন-ওষুধ। সুতরাং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নতুন করে একটি হিসাব দিতে হবে, যাতে করে যাতে বাজারে প্রকৃত চিত্রটি প্রতিফলিত হয়।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি রাখতে চায় সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি ও কৌশলী না হলে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে। উল্টো তার প্রভাব পড়বে অন্য খাতে।
