হোম জাতীয় ছিনতাইকারীকে দৌড়ে একাই ধরলেন তরুণী, দিলেন পুলিশে

জাতীয় ডেস্ক :

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সাহসিকতা। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পেছনে ধাওয়া করে মোবাইল ছিনতাইকারীকে একাই ধরে বেধড়ক পিটিয়েছেন। এরপর পুলিশে ধরিয়ে দেন ওই তরুণী। শুধু তাই নয় কৌশলে ওই ছিনতাকারীর সহযোগীকেও ডেকে এনে ধরিয়ে দেন পুলিশে। তবে এখনও তিনি ফিরে পাননি তার মোবাইল।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় বাসে করে মিরপুর থেকে পুরান ঢাকায় যাচ্ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। বাসটি কারওয়ানবাজারের ইত্তেফাক গলিতে আসার পর বাসের জানালা দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী।

তাৎক্ষণিক বাস থেকে নেমে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করেন ওই তরুণী। কিন্তু তাকে আর ধরা সম্ভব হয়নি। ঠিক তখন ঘটে আরেক ছিনতাইয়ের ঘটনা। এক নারীর মোবাইল নিয়ে পালাচ্ছিল আরেক ছিনতাইকারী। এসময় তাকে ধরে ফেলেন তিনি। এরপর একাই বেদম মারধর করেন।

এ ঘটনার পর লোকজনের সহায়তায় ওই ছিনতাইকারীকে দিয়ে ফোন করিয়ে সহযোগী আরেক ছিনতাইকারীকে ডেকে আনেন ওই তরুণী। এরপর তাকেও ধরে পুলিশে দেয়া হয়।

মাটিতে ফেলে তরুণীর উত্তম-মধ্যমের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তরুণীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন সবাই।

যদিও ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তোভোগীসহ উপস্থিত জনতা। তারা জানান, কাওরান বাজার এলাকায় প্রতিদিন অনেক মোবাইল ছিনতাই হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাদের দাবি, পুলিশ সবাইকে চেনে, তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজস আছে বলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারওয়ান বাজার মোড়ের চারপাশ চারটি থানার অধীনে পড়েছে, একপাশ পড়েছে তেজগাঁও থানায়, একপাশ হাতিরঝিল থানায়, একপাশ কলাবাগান থানায় আর অপরপাশ শাহবাগ থানায়। ফলে কোন অঘটন ঘটলে পুলিশও অনেক সময় মামলা নিতে গড়িমসি করে। এক থানা আরেক থানার দিকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ছিনতাইকারীরা এটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে।

যদিও তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, ওই শিক্ষার্থী মামলা করতে চাচ্ছিলেন না। পরে মোবাইল ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। দ্রুতই মোবাইল উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন