আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের ভবন সংলগ্ন এলাকায় নির্মমভাবে পিটিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়েছে। এ সময় সেনা সদস্যরা ‘গোটা গো গামা’ ফলক বিশিষ্ট তাঁবুগুলো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রায় শখানেক আন্দোলনকারীকে নিবৃত করে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ত্যাগ করার পর প্রেসিডেন্টের ভবন নিয়ন্ত্রণে নামে সেনারা। শুক্রবার (২২ জুলাই) আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্সিয়াল সেক্রেটারিয়েট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই কলম্বোর রাস্তায় যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। কয়েকশ পুলিশ মোতায়েনসহ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বাইরেও নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। খবর আল জাজিরার।
নিপুণ চারাকা জয়াসেকারা নামের আটক এক বিক্ষোভকারী আল জাজিরাকে জানান, মধ্যরাতে আমরা সেনাদের বড় একটি দলকে প্রবেশ করতে দেখি। যখন সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ চালায় তখন নিপুণ লাইভ ভিডিও শুরু করেছিলেন তবে এরপরই তার ফোনটি হারিয়ে যায়।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বুধবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হয় শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নতুন নেতা নির্বাচিত করতে একে একে ভোট দেন পার্লামেন্টের ২১৯ আইনপ্রণেতা। এ ছাড়াও অনুপস্থিত ছিলেন দুজন। বাতিল হয় আরও চারটি ভোট।
দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ছয়বারের প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। তার পক্ষে ভোট পড়ে ১৩৪টি। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী দুলাস আলাহাপেরুমা পান ৮২ ভোট। এ ছাড়াও তৃতীয় প্রার্থী অনুঢ়া দেশনায়েকে পান মাত্র তিন ভোট।
নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন রনিল। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা কঠিন সময় পার করছে। সংকট সমাধানে সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন রনিল। এর আগে ছয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
