জাতীয় ডেস্ক :
জ্বালানি সাশ্রয় করে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে সরকারি অফিসের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, অবস্থা বুঝে অফিস সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন ‘আমরা ধীরে ধীরে ম্যানেজের দিকে যাচ্ছি। বিষয়টি আলোচনা-পর্যালোচনার পর্যায়ে আছে। যদি দেখি যে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম করে পুরো সময় অফিস করতে পারছি, তাহলে অফিসের সময় কমানোর দরকার নেই। এটি নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে চলছে। যদি মনে হয় এভাবে চললে কোনো সমস্যা নেই তাহলে সব স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।’ তবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময়সূচির পরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অফিস খোলা না রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে।
এর আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ১৯ দফা নির্দেশনা দেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার (২০ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার এ সব নির্দেশনার কথা জানান।
নির্দেশনাগুলো হলো-
১. সেন্ট্রাল এসির থার্মোস্ট্যাটযুক্ত অংশের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করে থার্মোস্ট্যাট লক করা হয়েছে বিধায় তাপমাত্রা এর নিচে নামানো সম্ভব নয়। দুই ঘণ্টা অন্তর এক ঘণ্টা সেন্ট্রাল এসি চালু থাকবে।
২. সেন্ট্রাল এসির নিয়ন্ত্রণযোগ্য অংশের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না।
৩. পানি ভবনের সবগুলো করিডোরের বাতি বন্ধ থাকবে।
৪. কক্ষের ডেস্কের ওপরে অবস্থিত লাইট ছাড়া অন্য সব বাতি বন্ধ থাকবে।
৫. কক্ষ ত্যাগের সময় বাতি ও এসি বন্ধ থাকবে।
৬. পানি ভবনের ভেতরের সব গ্লাসডোর বন্ধ থাকবে।
৭. আলো প্রবেশের সুবিধার্থে গ্লাস ডোরে লাগানো ফ্রোস্টেড পেপার খুলে স্বচ্ছ করতে হবে।
৮. পানি ভবন ক্যাম্পাসের গার্ডেন বাতি বন্ধ থাকবে।
৯. পানি ভবনে তিনটি লিফট চালু থাকবে। বাকি সব লিফট বন্ধ থাকবে।
১০. আলো প্রবেশের সুবিধার্থে কক্ষের জানালার পর্দা সরিয়ে রাখতে হবে।
১১. ইলেকট্রিক কেটলি, ওভেন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
১২. দিনের বেলায় সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. সকাল ৯টায় অফিসের কার্যক্রম শুরু করে বিকাল ৫টার মধ্যেই অফিস ত্যাগ করতে হবে।
১৪. ব্যক্তিগত কাজে অফিসের গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৫. জ্বালানি সাশ্রয়ে একই গাড়িতে একাধিক কর্মকর্তার অফিসে যাতায়াত উৎসাহিত করা হয়েছে।
১৬. সাইট পরিদর্শনে একাকি গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে।
১৭. প্রশিক্ষণ কোর্স সংখ্যা কমাতে হবে।
১৮. মিটিং যথাসম্ভব অনলাইনে করতে হবে।
১৯. গ্রিন রোডের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব ভবনে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পুরো মন্ত্রণালয় বিদ্যুতের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
