নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় এক ভূমি কর্মকর্তা পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা আটকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, কাটিয়া সরকারপাড়া গ্রামের গগন চন্দ্র মন্ডলের স্ত্রী কুহেলী রাণী সরদার।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বিগত ২০০৮ সালে আমার স্বামী এবং আমার নিজের নামে কাটিয়া মৌজার এস,এ খারিজ মতে ৯৭৩/১/৮ নং খতিয়ান হতে ২৩০৬ দাগে রিন্টু কুমার মিত্রের নিকট হতে ০.০৫০০ একর জমি ক্রয় করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। জমি ক্রয়ের সময় বিক্রেতা আমাদের দলিলে চলাচলের জন্য ৬ ফুট পথ উল্লেখ করে তা ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেন। রিন্টু কুমার মিত্র ও পান্না লাল মিত্র এদের নিকট হতে মার্জিত কুমার বিশ্বাস ২৩০৬ দাগে ০.১২০০ একর জমি খরিদ করেন। পরবর্তীতে মার্জিত কুমার বিশ্বাস এর নিকট হতে বিশ্বজিত বিশ্বাস ০.১২০০ একর জমি প্রাপ্ত হন।
বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাসের দলিলের চৌহদ্দিতে পথ উল্লেখ থাকলেও এই পথ ব্যবহারের তার কোন অনুমতি নেই। বিশ্বজিত বিশ্বাসের জমির চতুর্দিকে প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। বিশ্বজিত বিশ্বাস কোন সময় এই পথ ব্যবহার করতেন না বা বর্তমানেও করেন না। বিগত ২৬/০৬/২০২২ তারিখ অমূল্য বিশ্বাসের পুত্র বিশ্বজিত বিশ্বাস ঝাউডাংগা কলেজের শিক্ষক তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের বাড়িতে প্রবেশের গেটটি কেটে দেন এবং আমাদের চলার পথের দেড় ফুট জায়গা দখল করে গেট নির্মাণ করায় আমাদের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
গেট নির্মাণ করে আমাদের অবরুদ্ধ করার কারণ জানতে চাইলে বিশ্বজিত বিশ্বাস আমাদের বিভিন্ন হুমকী ধামকি প্রদর্শন করে বলে গেট খোলা হবে না। তোদের যা করার তা করতে পারিস। এ বিষয়ে গত ২৬ জুন ২০২২ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ভাবে বসাবসি করা হয়। সেখানে জয়নাল আবেদীন জোসী, সাগর, নাজমুল ডাক্তার, রানা (বাংলাদেশ জাতীয় দলের খোখো অধিনায়ক), সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে তারা বলেন যেহেতু দলিলে গগন চন্দ্র মন্ডল ও কুহেলী রানী সরদার এদের পথ ব্যবহারের অনুমতি আছে। কিন্তু বিশ্বজিত বিশ্বাসের দলিলে পথ ব্যবহারের অনুমতি না থাকা স্বত্ত্বেও গগন চন্দ্র মন্ডল ও কুহেলী রানী সরদার এদের চলাচলের পথে গেট দেওয়ায় গেটটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
বিশ্বজিত বিশ্বাস সকলের সম্মুখে গেটটি তুলে নেওয়ার জন্য রাজী হলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে গেটটি তুলে না নিয়ে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। বিশ্বজিত বিশ্বাস অর্থশালী হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো আমাদের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। আমার বড় পুত্র অরিন্দম মন্ডল অপু সাতক্ষীরার বর্তমানে ব্যাডমিন্টনের ১ নং খোলোয়াড়। সে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার হয়ে ব্যাডমিন্টনে অংশগ্রহণ করে আসছে। আমার ছোট পুত্র ননী গোপাল মন্ডল নিপু জেলার স্কুল পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় একক ও দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়। আমার স্বামী একজন সরকারি চাকুরীজীবী (ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ চাকুরী করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত নিরীহ ও সহজ-সরল প্রকৃতির। চাকুরীর বাহিরে অন্য কিছুই ভাবেন না। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে বিশ্বজিত বিশ্বাস সন্ত্রাসী স্টাইলে আমাদের জিম্মি করে ফেলেছে। প্রতিবাদ করার কোন লোক না থাকায় আমরা বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আবার উল্টো আমাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানিসহ খুন জখমের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। আমরা ওই বিশ্বজিত বিশ্বাসের কবল থেকে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি অবমুক্তের দাবিতে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
