আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশি বঞ্চনার শিকার হতে হয় শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী শিশুদের। এমন উদ্বেগ থেকেই শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের সাংকেতিক ভাষায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছে ইন্দোনেশিয়ার একটি স্কুল।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইন্দোনেশিয়ার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে ২০১৯ সালে একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ধর্মগুরু আব্দুল কাহফি। জাভার যোগিয়াকার্তা শহরে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলের নাম দারুল আ’শোম। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ ছিল সাংকেতিক ভাষায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা এবং তেলাওয়াতে সহায়তা করা।
রয়টার্স জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ১১৫ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে দারুল আ’শোম নামের স্কুলটিতে কোরআন শিক্ষা নিচ্ছেন, যাদের বয়স ৭ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। এছাড়া স্টাফ রয়েছেন ১২ জন।
এ স্কুলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ করে আব্দুল কাহফি রয়টার্সকে বলেন, ‘বর্তমানে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্করা খুব কমই ধর্ম সম্পর্কে গভীরভাবে জানে। কারণ স্কুল বয়স থেকে তারা কখনোই এটি সম্পর্কে শেখেনি।’
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি স্কুলের পাঠ্যক্রমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সীমিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। মূলত কিন্ডারগার্টেনের পরিবর্তে আট বা নয় বছর বয়সে এ ধরনের শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয়।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি ১০ জন প্রতিবন্ধী শিশুর মধ্যে মাত্র তিনজন স্কুলে যেতে সক্ষম। সেখানে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সাধারণত স্কুলে কোরআন তেলাওয়াত শিখতে এবং মুখস্থ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় নেয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের পাশাপাশি কয়েক লাখ অন্যান্য ধর্মীয় স্কুল রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা লাভের একমাত্র উপায় মূলত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই।
