কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে গণধর্ষণের শিকার হয়ে এক গৃহবধূ (১৯) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে গণধর্ষণের ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বুধবার (২৯ জুন) ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বামী লাল চাঁন মিয়া (৩১) সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজন হচ্ছে, রন্টু চৌকিদার (৪০), নাসিরুদ্দীন (৩৮) ও শরীফ মিয়া (৩২)।
নিহত গৃহবধূ উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের হাফসরদিয়া গ্রামের লাল চাঁন মিয়ার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি রসুলপুর নয়াহাটি গ্রামে।
সূত্র জানায়, ৯ মাস আগে হাফসরদিয়া গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে লাল চাঁন মিয়ার সাথে মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লাল চাঁন মিয়া তার স্ত্রীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু নানা কৌশলে গৃহবধূ নিজেকে রক্ষা করে আসছিল।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৭ জুন) রাত ৮টার দিকে গৃহবধূ বাবার বাড়ি উত্তর রসুলপুর গ্রাম থেকে স্বামীর বাড়ি হাফসরদিয়া গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে শাহপুর রাস্তার মোড় থেকে তাকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী পতিত জমিতে ৬/৭ জন মিলে রাতভর ধর্ষণ করে।
পরে মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে বিবস্ত্র অবস্থায় গৃহবধূকে তারা রাস্তায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা গৃহবধূকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে নিকলী থানার (ওসি) মুহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ বলেন, গৃহবধূ মারা যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের নাম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রনি মিয়া ছাড়া বাকি চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
